রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরুতে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ দেখা গেলেও বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, কোন্দল, অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে টিআইবির জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক ‘গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে ইফতেখারুজ্জামান সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুটি ভোট সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে যদি সকল প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দল বিধিসম্মত আচরণ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল দায়িত্ব প্রার্থীদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর।”
টিআইবির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো দল তা মানেনি। বিশেষত জামায়াতে ইসলামী একমাত্র দল যা একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি। এ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, “যেসব দল থেকে আশা ছিল, তারা কেন এই সুযোগকে উপেক্ষা করেছে? সবচেয়ে বড় দলের প্রার্থীদের মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ২.৭ শতাংশ।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পাঁচটি মূল স্তম্ভ হচ্ছে অর্থ, ধর্ম, পেশি, পুরুষতন্ত্র এবং গরিষ্ঠতন্ত্র। ভোটারদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হলেও মূল দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর উপর।
সংবাদ সম্মেলনে সাতটি প্রধান নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে:
| ক্রমিক | পর্যবেক্ষণ |
|---|---|
| ১ | শুরুতে শান্ত প্রতিযোগিতা থাকলেও সহিংসতা, সংঘাত ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা ক্রমবর্ধমান। |
| ২ | নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করছে। |
| ৩ | অর্থ ও ধর্মের প্রভাব ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। |
| ৪ | নির্বাচন কমিশন ও অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ঘাটতি। |
| ৫ | আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব। |
| ৬ | সরকারি কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা। |
| ৭ | রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা। |
টিআইবি গণভোট সংক্রান্ত ১১টি পর্যবেক্ষণও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সরকারের প্রভাবশালী ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোদুল্যমানতা, সরকারি প্রচারণা এবং নির্বাচন কমিশনের সীমিত স্বতন্ত্রতা। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ, ব্যয় ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন নির্বাচনকে বিতর্কিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রারম্ভিক বক্তব্যে ইফতেখারুজ্জামান গতকাল রাতের গণমাধ্যমের অফিস থেকে সাংবাদিকদের তুলে নেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “এ ধরনের আচরণ মধ্যযুগীয় সহিংসতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে এবং গণমাধ্যমকে ভীতিপ্রবণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সব প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনীসহ, বিরত থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান।
