লক্ষ্মীপুর-৩ জামায়াতের প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের সতর্কবার্তা

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. রেজাউল করিমকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, নির্বাচনী আচরণবিধির পুনরায় লঙ্ঘন হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

সতর্কবার্তাটি ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শুক্রবার তারিখে প্রেরিত এই পত্রটি রবিবার প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

ইসি জানিয়েছে, ড. করিম সরকারি নির্বাচনী প্রচারণার সময় শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রচারণা চালিয়েছেন এবং ভোটারদের সমর্থনের বিনিময়ে নগদ অর্থ ও বাসা-বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিষয়টি প্রথমবারের মতো নির্বাচন তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটিতে বিএনপির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি দ্বারা লিখিত অভিযোগ আকারে জানানো হয়। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে ২৭ জানুয়ারি ইসিতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

নিম্নলিখিত টেবিলে ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তারিখস্থানঅভিযোগকারীঅভিযোগপ্রার্থীর কার্য/প্রতিশ্রুতি
৯ জানুয়ারিলক্ষ্মীপুর-৩, ওয়ার্ড ৮, একাডেমি রোডমাহফুজা খাতুন (৮৫)ভোটার প্রভাবনগদ অর্থ ও বাসা প্রতিশ্রুতি
২৭ জানুয়ারিনির্বাচন কমিশন, ঢাকাওহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি (বিএনপি)লিখিত অভিযোগ জমাতদন্তের মাধ্যমে প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত

কমিশন জানিয়েছে, এই কর্মকাণ্ড ২০২৫ সালের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধির বিধি ৪(১) ও ১৮-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পুনরায় লঙ্ঘন হলে ১৯৭২ সালের ‘প্রতিনিধিত্বের মানুষ’ আদেশের ৯১ক(৬গ) ধারার অধীনে প্রার্থিতা বাতিলসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

নির্বাচনী বিশ্লেষকরা এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের প্রতি অবৈধ প্রভাব কমাতে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রার্থীদের মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা রক্ষা করতে অপরিহার্য।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা, যদিও সতর্কবার্তাকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন, তবুও তারা বলছেন যে শুধুমাত্র সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তদারকি বৃদ্ধি করা এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যক। এর ফলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সকল প্রার্থী সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।