বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিপা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিশ্চিত করেছে। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে ভাইরাসের বিস্তারের ঝুঁকি সীমিত থাকলেও, দেশীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সতর্কতা বাড়িয়েছে।

WHO শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি জানায়, রোগী ছিলেন রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০–৫০ বছর বয়সী এক নারী। তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ দেখান, এবং ২২ জানুয়ারি ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়।

WHO আরও জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট (IHR NFP) আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটিকে এ ঘটনার বিষয়ে অবহিত করে। রোগীর সাম্প্রতিক কোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না, তবে তিনি কাঁচা তাল গাছের রস (date palm sap) পান করেছিলেন, যা নিপা ভাইরাস সংক্রমণের একটি পরিচিত উৎস।

রোগ নির্ণয়ের পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রোগীর ৩৫ জন ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে। এদের মধ্যে কেউ সংক্রমিত হয়নি, তবে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নিপা প্রাদুর্ভাব সম্পর্কিত পরিস্থিতিও নজর কাড়ছে। WHO জানিয়েছে, ভাইরাসের গুরুতর প্রকৃতির কারণে সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী কোনো ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

WHO মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানম গেব্রেয়েসুস নিপা ভাইরাসকে “দুর্লভ কিন্তু মারাত্মক রোগ” হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কতা, পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। WHO-এর অনুমান অনুযায়ী, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এখনও কম।

বাংলাদেশ সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করছে। জনসচেতনতা, সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়ানোই এখন প্রধান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত রোগীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তথ্যবিস্তারিত
বয়স৪০–৫০ বছর
লিঙ্গনারী
স্থাননওগাঁ, রাজশাহী বিভাগ
হাসপাতালে ভর্তিজানুয়ারি ২০২৬
লক্ষণ দেখা দেয়২১ জানুয়ারি ২০২৬
সংক্রমণ নিশ্চিত২২ জানুয়ারি ২০২৬
ভ্রমণ ইতিহাসনেই
সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎসকাঁচা তাল গাছের রস
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা পরীক্ষা করা ব্যক্তি৩৫ জন
নতুন সংক্রমণনেই
WHO পরামর্শসতর্কতা, পরীক্ষা ও নজরদারি বজায় রাখা

বর্তমানে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সচেতনতামূলক প্রচারণা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং লক্ষণ প্রকাশিত হলে তা দ্রুত জানানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে নতুন সংক্রমণ রোধ করা যায়।