গাজার ধ্বংসস্তুপে ঘেরা রাস্তাগুলিতে, বারো বছরের আব্দুর রহমান আল-নাশাশ তার আউদের সুরে নিজেকে ধরি রাখে। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী এই লুৎটি তার একান্ত সঙ্গী ও এক ধরনের মানসিক প্রেরণা হয়ে উঠেছে। এক নির্মম ইসরায়েলি হামলায় আল-রাজি স্কুলে তার পিতা নিহত হন, আর আব্দুর রহমানও গুরুতর আহত হন, যার ফলে এক পা কেটে দিতে হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি কেন্দ্রীয় গাজার ঘনবসতিপূর্ণ বুর্জ শরণার্থী শিবিরে ফিরে আসেন, যেখানে স্থানচ্যুতি এবং অব্যাহত সংঘাতের ছায়ায় জীবন চলতে থাকে।
আব্দুর রহমানের আউদের সঙ্গে সম্পর্ক তার ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠেছিল। পিতা তাকে প্রথম বীণাটি উপহার দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সুর শিখিয়েছিলেন। সেই সময়ের সংগীত তার জীবনে ক্ষুদ্রস্বাভাবিকতার অনুভূতি উপহার দিত। তবে হামলার পর সব কিছু ধ্বংস হয়। তবুও, শোক এবং শারীরিক কষ্টের মাঝেও আব্দুর রহমান তার সংগীতের কাছে আশ্রয় খুঁজে পান। আউদের মেলানকোলি সুর যেন তার দুঃখ ও স্থায়ী আশা দুটোই বহন করে।
তার সঙ্গীত প্রতিভা আজও বুর্জ শিবিরে নতুনভাবে জ্বলে উঠেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আনাদোলু এজেন্সির ফটোতে দেখা যায়, আব্দুর রহমান বন্ধুদের সঙ্গে আউদ বাজাচ্ছেন—এটি ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুকালীন সহনশীলতার একটি বিরল চিত্র। জর্ডানে চিকিৎসার সময়, যেখানে তিনি কৃত্রিম পা পান, পিতার প্রিয় বীণাটি রাখতে পারেননি। কিন্তু বুর্জে ফিরে আসার পর, একজন শিক্ষক তার সঙ্গীতপ্রতিভা চিনে নতুন আউদ উপহার দেন, যা তার শিল্পী মনকে পুনরুজ্জীবিত করে।
বুর্জ শিবিরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার বাস করে, যারা দীর্ঘমেয়াদী স্থানচ্যুতি এবং অব্যাহত নাকাবন্দির কারণে চরম কষ্টে জীবন যাপন করছে। জীবন শিবিরে ঝুঁকিপূর্ণ, আর বারবারের হামলা মানবিক সংকটকে তীব্রতর করছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে সম্প্রতি গাজায় সংঘটিত সহিংসতার toll উপস্থাপন করা হলো:
| ঘটনা | সংখ্যা/পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ফিলিস্তিনি নিহত | ৭১,৪০০+ | অধিকাংশ নারী ও শিশু |
| ফিলিস্তিনি আহত | ১,৭১,৩০০+ | গুরুতর আহতদের সঠিক সংখ্যা অজানা |
| যুদ্ধবিরতি ঘোষণা | ১০ অক্টোবর ২০২৩ | কিছু এলাকায় হামলা এখনও অব্যাহত |
| বুর্জ শিবিরে শরণার্থী পরিবার | হাজার হাজার | চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন |
৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। দৈনন্দিন জীবন এখন স্বল্পসাধ্য, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। আব্দুর রহমানের মতো শিশুদের জন্য সংগীত এক ধরনের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ—ধৈর্য, স্মৃতি এবং আশা বহনকারী। তার আউদ কেবল দুঃখের প্রতিধ্বনি নয়; এটি দৃঢ়তা ও জীবনের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা দেখায় যে সবচেয়ে নিঃশ্বাসহীন সময়েও মানবিক মনোবল টিকে থাকতে পারে।
