নীলফামারীর সৈয়দপুরে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দুই সদস্যের ওপর ছিনতাইকারী ও স্থানীয় জনতার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় পিবিআই-এর একটি মাইক্রোবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত দুই সদস্যকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী মহসিন আলী মন্টু সৈয়দপুর পৌর এলাকার মুন্সিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা এবং খালেদ মার্কেটে গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার আসামি।
পিবিআই-এর একটি টিম মহসিনকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে সৈয়দপুরে আসে। মহসিনকে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আটক করার সময় তিনি চিৎকার করতে থাকেন এবং নিজেকে “ভুয়া ডিবি পুলিশ” দাবি করেন। তার এই দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সংঘর্ষে জড়ায়।
হামলার সময় পিবিআই-এর মাইক্রোবাসে ভাঙচুর করা হয় এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিবিআই টিমকে উদ্ধার করে। আহত সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, “যারা পিবিআই সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক আসামিকে ধরার জন্য বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার কারণে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক এলাকায় কিছু সময় অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে থানার দ্রুত পদক্ষেপ এবং পিবিআই-এর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | সৈয়দপুর, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, খালেদ মার্কেট |
| সময় | ৩ ফেব্রুয়ারি, বিকাল |
| আক্রান্ত | পিবিআই-এর ২ সদস্য গুরুতর আহত |
| হামলাকারী | মহসিন আলী মন্টু, প্রতারণা মামলার আসামি |
| হামলার কারণ | মহসিন ভুয়া ডিবি পুলিশ দাবি, স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া |
| ভাঙচুর | পিবিআই-এর মাইক্রোবাস ক্ষতিগ্রস্ত |
| থানা পুলিশ পদক্ষেপ | পিবিআই টিম ও গাড়ি উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা, মামলা প্রক্রিয়াধীন |
| বর্তমান পরিস্থিতি | পলাতক আসামি ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে |
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত হওয়ায় সৈয়দপুরে অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে পুলিশ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
