কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় একটি তুচ্ছ ঘটনা—হাঁস চুরির সন্দেহ—পরিণত হলো এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে। উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক সাইদকে (২৪) রড ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের বাবা মো. আলাউদ্দিন ও মা সামসুন নাহার জানায়, তাদের ছেলের ওপর হামলার সূত্রপাত ঘটে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবদুর রাজ্জাকের হাঁস হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থেকে। হাঁসটি হারানোর কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকলেও সন্দেহের বশে রাজ্জাক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাইদের ওপর চুরির অভিযোগ চাপান। অভিযোগ যাচাই বা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা না করে, সাইদকে তাঁর বসতঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলায় আবদুর রাজ্জাক, তাঁর দুই ছেলে মো. রাব্বি ও মো. জাহিদ, দোকানদার মো. শাওন, ওমর সানি ও জসিম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি অংশ নেয়। রড ও হাতুড়ির মতো ভারী লোহার অস্ত্র দিয়ে সাইদকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত সাইদকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। মালিগাঁও গ্রামের জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “একটি হাঁস হারানোর অভিযোগে কাউকে হত্যা করা মানবতার চরম লঙ্ঘন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সামসুল আলম জানান, হামলায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে ওমর সানি (২৫) ও জসিম উদ্দিন (৪৫)কে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করাচ্ছে, সামান্য সন্দেহের ভিত্তিতে নিজ হাতে বিচার নেওয়া সমাজের জন্য ভয়ংকর বার্তা বহন করে। এ ধরনের অপরাধ রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | হাঁস চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা |
| নিহত | সাইদ (২৪), নির্মাণশ্রমিক |
| স্থান | মালিগাঁও গ্রাম, দাউদকান্দি |
| অভিযুক্ত | আবদুর রাজ্জাক ও সহযোগীরা |
| আটক | ওমর সানি (২৫), জসিম উদ্দিন (৪৫) |
| আইনি অবস্থা | হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন |
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, সামাজিক সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে স্বল্পতম ঘটনারও ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে।
