বিচারক বদলিতে বিচার ব্যবস্থায় নতুন গতি

সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে দেশের পাঁচজন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারককে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি বিচারকের নতুন নিয়োগ, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বদলির মূল উদ্দেশ্য হলো বিচার বিভাগে প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় আদালতে ন্যায়বিচার প্রদান আরও গতিশীল ও দ্রুততর করা। বিশেষভাবে মুন্সীগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ময়মনসিংহ শ্রম আদালতে নতুন নিয়োগের প্রভাব বিশাল, কারণ এই ক্ষেত্রে বিচার কার্যক্রমের দ্রুততা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিম্নে নতুন নিয়োগ ও বদলির তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

কর্মকর্তা/বিচারকবর্তমান পদনতুন পদ ও কর্মস্থলদায়িত্ব গ্রহণের তারিখ
মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনহাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার)মুন্সীগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, জেলা ও দায়রা জজসুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত তারিখে
মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানআপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারঢাকা বিশেষ জজ আদালত-১, বিশেষ জজসুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত তারিখে
শরীফুল আলম ভূঁঞাহাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার)মুন্সীগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল, বিচারকসুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত তারিখে
বেগম ফাইজুন্নেসাআইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তামুন্সীগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বিচারক৪ ফেব্রুয়ারি, অবিলম্বে
মো. আবুল কাশেমঢাকা বিশেষ জজ আদালত-১, বিশেষ জজময়মনসিংহ শ্রম আদালত, চেয়ারম্যান৪ ফেব্রুয়ারি, অবিলম্বে

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোয়াজ্জেম হোসেন, মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ও শরীফুল আলম সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অন্য কর্মকর্তারা ৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান দায়িত্ব বুঝিয়ে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।

আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিচারক সমিতি জানিয়েছে, এই বদলির ফলে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় এবং শ্রম সংক্রান্ত বিচারে ন্যায়বিচার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে মোট ৬৪ জেলা ও দায়রা জজ এবং বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিয়মিত রদবদল ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্থানীয় আদালতের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বদলির লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক ভারসাম্য নয়, বরং বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ন্যায়বিচারের মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় আদালতে নাগরিকের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।