২০১৮ সালের পর বার্সেলোনার নক্ষত্র হয়ে উঠা স্পেনের তরুণ স্ট্রাইকার লামিন ইয়ামাল ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন। কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩৯তম মিনিটে গোল করে তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনার ৩৮ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন, যা ১৯৮২-৮৪ সালে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ৫৮ ম্যাচে করেছিলেন।
ম্যারাডোনার বার্সেলোনা ক্যারিয়ার দুই বছরের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৮২ সালে বোকা জুনিয়র্স থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ম্যারাডোনা মোট ৫৮ ম্যাচে ৩৮ গোল করেছিলেন। এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি নাপোলিতে ৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ডে যোগ দিয়ে ক্লাব ইতিহাসে নিজের অধ্যায় শুরু করেন। নাপোলিতে ৭ বছরের ক্যারিয়ারে ম্যারাডোনা ক্লাবকে দুটি সিরি আ শিরোপা, এক উইয়েফা কাপসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেতাব জিতিয়েছিলেন, যেখানে গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭।
তবে স্প্যানিশ তরুণ ইয়ামালের সাম্প্রতিক সাফল্য ম্যারাডোনার বার্সেলোনা রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে। ২০২৩ সালে বার্সার মূল দলে যোগ দেওয়া ইয়ামাল ১৩৫ ম্যাচে ৩৯টি গোল করেছেন। এই গোলের মধ্যে লা লিগা, কোপা দেল রে এবং ইউরোপান প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত।
ইয়ামালের গোল পরিসংখ্যান (বার্সেলোনা):
| প্রতিযোগিতা | ম্যাচ সংখ্যা | গোল সংখ্যা |
|---|---|---|
| লা লিগা | ৯১ | ২৩ |
| কোপা দেল রে | ৯ | ৫ |
| ইউরোপ/চ্যাম্পিয়নস লিগ | ২৯ | ৮ |
| মোট | ১৩৫ | ৩৯ |
বুধবার কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ইয়ামাল বার্সেলোনাকে লিড এনে দেন। পরে রোনাল্ড আরাউহো এক গোল করে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন। এই জয়ে বার্সেলোনা কোপা দেল রের সেমিফাইনালে উঠা প্রথম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের পর বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা বলেন, “ইয়ামাল একজন সত্যিকারের জাদুকর। তাঁর পা থেকে ম্যাচের প্রথম গোল এসেছে। তবে রোনাল্ড আরাউহোর অবদানের জন্য আমি বিশেষভাবে খুশি। তার গোল আমাদের আরও স্বস্তি দিয়েছে এবং অধিনায়কের ফিরে আসার খুশির সঙ্গে ম্যাচটি আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।”
ইয়ামালের এই কীর্তি শুধুই বার্সেলোনার ইতিহাস নয়, বরং আধুনিক ফুটবলে তরুণদের সম্ভাবনার এক নতুন প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ২১ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ম্যারাডোনার রেকর্ড অতিক্রম করা ইয়ামাল ক্লাব ইতিহাসে নিজের নাম চিরস্থায়ীভাবে লিখিয়ে দিয়েছেন।
