বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি মোবাইল ফোন ব্যালান্স ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সীমা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করা এবং সরকারী ও বেসরকারি সেবাগুলো নাগরিকদের জন্য আরও সহজলভ্য করা।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক এখন মাসে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন মোবাইল ব্যালান্স ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার জন্য। এর আগে এই সীমা ছিল মাসে ৬০০ টাকা এবং বছরে ৩,০০০ টাকা। এই পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ মোবাইল টেলিকম অপারেটর সমিতি (এএমটিওবি) এর অনুরোধ এবং বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।
এএমটিওবি’র মহাসচিব লে. কর. (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, “মোবাইল ব্যবহারকারীরা এখন মাসে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা কিনতে পারবেন, যা পূর্বের ৬০০ টাকার সীমার তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩টি সরকারি সেবা, যেমন জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন, নাগরিকত্ব এবং অনাথ সনদ, নতুন ভোটার যাচাই সেবা, পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ওটিটি এবং বিনোদন সেবা।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন সীমা প্রয়োগ করা হচ্ছে পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪ অনুযায়ী এবং এটি সরাসরি অপারেটর বিলিং (ডিওবি) সেবা ফ্রেমওয়ার্কের আওতায়। আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত, মোবাইল অপারেটররা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ডিওবি সেবা প্রদান করতে পারবে।
ডিওবি সেবা প্রদানকারী অপারেটরদের অবশ্যই নিম্নলিখিত শর্তগুলো মেনে চলতে হবে:
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুসরণ।
শুধুমাত্র মোবাইল উপযোগী ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করা।
নিজেদের পণ্য বা সেবা অগ্রাধিকার দেওয়া।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ, ভার্চুয়াল কারেন্সি, জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি, লটারি, ফরেক্স ট্রেডিং, ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং নিষিদ্ধ।
বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ।
পণ্য ডেলিভারি নিশ্চিত করা, গ্রাহক অধিকার রক্ষা ও রিফান্ড নীতি বাস্তবায়ন।
নতুন সীমার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্র. নং | সীমার ধরন | পূর্বের সীমা | নতুন সীমা |
|---|---|---|---|
| ১ | মাসিক | Tk 600 | Tk 2,000 |
| ২ | বার্ষিক | Tk 3,000 | Tk 20,000 |
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে যে শীঘ্রই প্রকাশিত ডিওবি নির্দেশিকা মোবাইল পেমেন্টকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমা বৃদ্ধির ফলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং ব্যবহারকারীরা সরকারী ও বেসরকারি ডিজিটাল সেবা আরও সুবিধাজনক ও নমনীয়ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।
