এপস্টেইনের পাম বিচ প্রাসাদে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন

কুখ্যাত অর্থবিত্তের মালিক এবং সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে উন্মোচিত নথিপত্র বর্তমানে বৈশ্বিক বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এসব সংবেদনশীল নথিতে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে পপ সংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের নাম অন্যতম। এই প্রকাশনাটি মূলত এপস্টেইনের অন্ধকার সাম্রাজ্যের সঙ্গে বিশ্বখ্যাত তারকাদের সংযোগের মাত্রা কতটুকু ছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও পাম বিচের সংযোগ

আদালতের নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, মাইকেল জ্যাকসন অন্তত একবার ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত এপস্টেইনের বিলাসবহুল প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন। এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগকারী জোহানা সজোবার্গ আদালতে দেওয়া তাঁর সাক্ষ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সেই বাড়িতে মাইকেল জ্যাকসনকে দেখেছিলেন। তবে এই নথিপত্রে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে—তা হলো, জ্যাকসন সেখানে উপস্থিত থাকলেও এপস্টেইনের কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অনৈতিক কাজের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত আলোকচিত্রের নেপথ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন তারকার বেশ কিছু আলোকচিত্র প্রকাশ করেছে। একটি ছবিতে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং প্রখ্যাত গায়িকা ডায়ানা রসের সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসন একটি সংকীর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। এই ছবিতে আরও কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতি থাকলেও তাঁদের পরিচয় গোপন রাখতে মুখমণ্ডল ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ রকস্টার মিক জ্যাগার এবং অভিনেতা ক্রিস ট্যাকারকেও বিভিন্ন ফ্রেমবন্দি অবস্থায় দেখা গেছে।

নিচে প্রকাশিত নথিতে উল্লিখিত প্রধান ব্যক্তিদের ভূমিকা ও প্রাপ্ত তথ্যের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

ব্যক্তির নামপেশা/পরিচয়প্রাপ্ত তথ্য ও সংযোগ
মাইকেল জ্যাকসনপপসম্রাটপাম বিচের বাড়িতে উপস্থিতি; অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই।
বিল ক্লিনটনসাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টএপস্টেইনের সাথে বিমানে ভ্রমণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি।
ডায়ানা রসসংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রীদলীয় আলোকচিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের সাথে উপস্থিতি।
ক্রিস ট্যাকারমার্কিন অভিনেতাখাবারের টেবিলে ক্লিনটনের পাশে এবং বিমানের রানওয়েতে দেখা গেছে।
গিলেন ম্যাক্সওয়েলএপস্টেইনের সহযোগীতারকাদের সাথে সমন্বয় ও যাতায়াতের নথিতে নাম রয়েছে।
মিক জ্যাগারসংগীতশিল্পীএপস্টেইনের সামাজিক বৃত্তের আলোকচিত্রে উপস্থিতি।

বিতর্ক ও প্রভাব

এসব নথিতে নাম আসা মানেই কেউ অপরাধী—এমনটি ভাবা ঠিক নয় বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তবে এপস্টেইনের মতো একজন ব্যক্তির সামাজিক বলয়ে কেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বিচরণ করতেন, সেই নৈতিক প্রশ্নটি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্রিস ট্যাকারকে যেমন এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে তাঁর সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে দেখা গেছে, যা অনেককেই অবাক করেছে।

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের ভক্তদের জন্য এই তথ্যটি কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও নথিতে তাঁর ‘নির্দোষ’ থাকার বিষয়টি স্বস্তি দিচ্ছে। এই পুরো বিষয়টি এখন ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তির আড়ালে থাকা অন্ধকার জগতটি ধীরে ধীরে জনসমক্ষে আসছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি, দ্য আইরিশ টাইমস এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রতিবেদনগুলো সাজিয়েছে।