জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উচ্চ পদস্থ নেতা জয়নাল আবেদিন শিশিরকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। শিশিরের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি অজানা বিদেশি নম্বর থেকে তাকে হুমকি মূলক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয়েছে, যেখানে তার হত্যার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশির সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, হুমকির ভাষা ছিল সরাসরি, দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীরভাবে আতঙ্কজনক। বার্তাগুলিতে উল্লেখ ছিল যে নির্বাচনের আগে তাকে গুলি করা হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাকে রক্ষা করতে পারবে না। এমনকি হুমকিদাতা জানিয়েছে, তার মৃতদেহ সড়কে পড়ে থাকবে—যা রাজনৈতিক সহিংসতার ভয় আরও বাড়িয়েছে।
-6980f4d137df2.jpg)
শিশির আরও জানান, বার্তাপ্রেরক নিজেকে “হোসেন জাহিদ” হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তিনি বার্তাগুলোর মাধ্যমে কেবল শিশিরকে অনলাইনে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেননি, বরং অফলাইনে নজরদারি বা সরাসরি যোগাযোগের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। শিশির তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, তিনি কি অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মতো রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হবেন কি না।
শিশির এই হুমকিগুলোকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শগত সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, অন্যায় এবং স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার বিরুদ্ধে তার স্পষ্ট অবস্থানই তাকে এই হুমকির লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভয় আমাকে নীরব করতে পারবে না, রাজনৈতিক প্রতিরোধ সাহস এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ত্যাগের দাবি রাখে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনা কেবল একজন নেতার উপর আক্রমণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী পরিবেশের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকার কর্মী এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা ন্যায়বিচারের ত্বরিত অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার মূল তথ্যসমূহ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রার্থী | জয়নাল আবেদিন শিশির |
| পদবি | যুগ্ম সদস্য সচিব, এনসিপি |
| হুমকির প্রকৃতি | নির্বাচনের আগে গুলি করে হত্যা |
| মাধ্যম | হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা |
| নম্বর উৎস | বিদেশি নম্বর |
| দাবিকৃত প্রেরকের নাম | হোসেন জাহিদ |
| প্রকাশের মাধ্যম | যাচাইকৃত ফেসবুক পোস্ট |
| প্রকাশের তারিখ | ২ ফেব্রুয়ারি |
নির্বাচনের আগমনী দিনে এই ঘটনা রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধ এবং নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখাই এখন সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
