অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলিং বিভাগে বড় ধাক্কা খেয়েছে, কারণ মূল পেসার জশ হ্যাজলউড হ্যামস্ট্রিং ও একিলিস চোটের কারণে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুর কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারবেন না। ৩৫ বছর বয়সী এই বোলার গত নভেম্বরের পর থেকে মাঠে নামেননি এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজেও পুরোটা সময় বাইরে ছিলেন।
বর্তমানে হ্যাজলউড তার চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন সিডনিতে, যেখানে তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া দল ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের জন্য সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কা পৌঁছে গেছে। হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে রিজার্ভ পেসার শন অ্যাবটকে, যিনি প্রয়োজনে মূল দলের খালি জায়গা পূরণ করবেন।
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমেইড এক বিবৃতিতে বলেন,
“আমরা মনে করেছি শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার আগে পরিচিত কন্ডিশনে হ্যাজলউডের পুনর্বাসন করানো বেশি কার্যকর হবে। তবে তার বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা এখনই নিশ্চিত নয়।”
এই অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার পেসিং ইউনিটের জন্য উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মূল তিন পেসার—প্যাট কামিন্স, হ্যাজলউড এবং মিচেল স্টার্ক একসঙ্গে মাঠে দেখা যাবে না। ইতিমধ্যেই কামিন্স চোটের কারণে এবং স্টার্ক টি–টুয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ায় দল তাদের অভিজ্ঞতা হারাচ্ছে।
দলগত পারফরম্যান্সও এই মুহূর্তে স্থিতিশীল নয়। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া হেরেছে ৩–০ ব্যবধানে, যার মধ্যে শেষ ম্যাচটি ১১১ রানে হারের রেকর্ড গড়েছে, যা টি–টুয়েন্টিতে তাদের সর্ববৃহৎ পরাজয়। পাকিস্তান সফরে নাথান এলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও টিম ডেভিড খেলেননি, তবে আজ তারা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
গ্রুপ ‘বি’ তে অস্ট্রেলিয়ার সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। গ্রুপের অন্যান্য প্রতিপক্ষ হলেন শ্রীলঙ্কা, ওমান এবং জিম্বাবুয়ে।
নিচের টেবিলটি অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ ‘বি’ প্রতিপক্ষ ও মূল তারিখগুলো দেখাচ্ছে:
| তারিখ | ম্যাচ | ভেন্যু | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১১ ফেব্রুয়ারি | অস্ট্রেলিয়া vs আয়ারল্যান্ড | কলম্বো | বিশ্বকাপ অভিযান শুরু |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | অস্ট্রেলিয়া vs ওমান | কলম্বো | মূল শক্তির পরীক্ষা |
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | অস্ট্রেলিয়া vs শ্রীলঙ্কা | কলম্বো | সহ–আয়োজকের বিরুদ্ধে |
| ২০ ফেব্রুয়ারি | অস্ট্রেলিয়া vs জিম্বাবুয়ে | কলম্বো | গ্রুপের শেষ ম্যাচ |
অস্ট্রেলিয়ার জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়দের পুনর্বাসন এবং মূল বোলিং ইউনিটকে শক্তিশালী রাখা। হ্যাজলউডের অনুপস্থিতি দলকে শুরুর কয়েক ম্যাচে ব্যাকআপ পরিকল্পনা নিতে বাধ্য করছে।
