পবিত্র শবেবরাতের শুভদিন আজ

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আত্মিক অনুশীলনের পরিবেশে আজ রাতে সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল বারাআত, যা শবেবরাত নামে সুপরিচিত। শাবান মাসের পনেরোতম রজনিকে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহ বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-মোনাজাত ও আত্মসমালোচনায় মগ্ন থাকে। এই পবিত্র রাত উপলক্ষ্যে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা। মাগরিবের নামাজের পর থেকেই সেখানে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ ও না’ত পরিবেশনের মাধ্যমে শবেবরাতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সন্ধ্যার পরপরই ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কুরআন ও হাদিসের আলোকে শবেবরাতের ফজিলত, তাৎপর্য এবং মুসলিম জীবনে এর প্রভাব তুলে ধরা হবে।

নির্ধারিত সময়ে খ্যাতিমান আলেম ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা আলোচনা করবেন। সারা রাত বায়তুল মোকাররম মসজিদ মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যাতে তারা নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও ব্যক্তিগত দোয়ার মাধ্যমে এ রজনিকে অর্থবহ করে তুলতে পারেন। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।

নিচে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রধান কর্মসূচির একটি সংক্ষিপ্ত সময়সূচি তুলে ধরা হলো—

সময়কর্মসূচিআলোচক/পরিচালক
মাগরিবের পরকুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’তনির্ধারিত কারি ও শিল্পী
সন্ধ্যা ৬:৩০শবেবরাতের ফজিলত বিষয়ে ওয়াজমুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী
রাত ৮:৩০করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে আলোচনাড. আফম খালিদ হোসেন
ফজরের পরআখেরি মোনাজাতমাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতেও অনুরূপ আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ের মুসল্লিরাও শবেবরাতের শিক্ষা ও তাৎপর্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

শবেবরাত ইসলামী জীবনব্যবস্থায় এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রজনি। আরবি ‘বারাআহ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি। এই রাতে আল্লাহ তায়ালার নিকট গুনাহ থেকে ক্ষমা, জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি এবং রহমত লাভের আশায় বান্দারা প্রার্থনা করে। হাদিসে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তায়ালা মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সকলকে ক্ষমা করেন। বহু আলেমের মতে, আগামী এক বছরের জীবন-মৃত্যু, রিজিক ও অন্যান্য বিষয়ে ফেরেশতাদের অবহিত করার ঘটনাও এ রাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে শবেবরাত পালনে শরিয়তসম্মত আমল ও প্রচলিত লোকাচারের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। আতশবাজি, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা কিংবা উচ্চশব্দে আনন্দ প্রকাশের মতো কর্মকাণ্ড এই রাতের ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা, দোয়া ও নীরব ইবাদতের মাধ্যমেই শবেবরাতের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়িত হয়। এই পবিত্র রাত মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ইসলাম কেবল আনুষ্ঠানিকতার ধর্ম নয়, বরং অন্তরের পরিবর্তন ও নৈতিক উন্নয়নের পথনির্দেশ।