নোয়াখালী, ২ ফেব্রুয়ারি – নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সোমবার ভোরে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। স্থানীয় সময় আনুমানিক সকাল চারটায় ঘটনাটি ঘটে। আগুনে কার্যালয়ের ভেতরের চেয়ার, টেবিল, ফাইল ও অন্যান্য সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এছাড়া কার্যালয়ের সংলগ্ন একটি ভাঙারি মালামালের দোকানও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি হামলা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী বরকতউল্লার নির্বাচনী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় জামায়াত কর্মীরাই কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশ বলেন, “প্রায় ১৪–১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এটি একদমই পরিকল্পিত হামলা। জামায়াত নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের সমর্থক ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দিয়েছেন। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেব।”
অপরপাশে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সভাপতি আবদুজ জাহের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নই। অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের সঙ্গে কোনো মিল নেই।”
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, “আগুন লাগার ঘটনা সত্য, তবে কীভাবে লাগলো তা এখনো নিশ্চিত নয়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নোয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির বরকতউল্লার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. বোরহান উদ্দিন। এটি একটি সুপরিচিত দ্বন্দ্বপূর্ণ আসন, যেখানে অতীতে নির্বাচনী সময় হিংসা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় কয়েকটি নির্বাচনী কার্যালয় ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
নিচের টেবিলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের এবং অতীত নির্বাচনী হিংসার সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখানো হলো:
| প্রার্থী / ঘটনা | দল | নির্বাচনী আসন | ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| বরকতউল্লা বুলু | বিএনপি | নোয়াখালী-৩ | ১৪–১৫ লাখ টাকা | নির্বাচনী কার্যালয় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে |
| মো. বোরহান উদ্দিন | জামায়াত | নোয়াখালী-৩ | – | অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন |
| ২০১৮ সালের হামলা | – | নোয়াখালী-৩ | বিভিন্ন | নির্বাচনী কার্যালয় ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়াতে এবং ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়ায়। আগামী সপ্তাহগুলোতে পুলিশ তদন্ত, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী চিত্রকে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাবিত করবে।
