দ্য ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলে মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি খনিতে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিধস দেশটিকে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলেছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কিনশাসা থেকে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ওই খনিতে আকস্মিকভাবে মাটি ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। ঘটনার সময় খনিতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছিলেন। ভূমিধসের পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও নিরাপত্তাহীনতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র সংঘাত, খনিজ সম্পদের অবৈধ উত্তোলন এবং মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে অস্থির। ২০২১ সালে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পর এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের দখলে নেয়। কোলটান, স্বর্ণ, কাসাইটেরাইটসহ মূল্যবান খনিজে সমৃদ্ধ হওয়ায় অঞ্চলটি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
সরকারি সূত্র জানায়, রুয়ান্ডার সহায়তায় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এম২৩ নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া খনির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই খনিকে পূর্ব কঙ্গোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তা মানদণ্ড ও শ্রমিক সুরক্ষা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান ভূমিধসের ঘটনায় সেই অব্যবস্থাপনারই ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের পর পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়েছিল। তবু কাজ বন্ধ করা হয়নি। এতে করে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। অনেক শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজার পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছে।
নিচের টেবিলে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দেশ | ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো |
| অঞ্চল | পূর্বাঞ্চল, নর্থ কিভু প্রদেশ |
| খনির ধরন | খনিজ (স্বর্ণ/কোলটানসমৃদ্ধ) |
| নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী | এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠী |
| ঘটনার তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি |
| সম্ভাব্য প্রাণহানি | অন্তত ২০০ জন |
| প্রধান কারণ | ভূমিধস ও নিরাপত্তা ঘাটতি |
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে খনিজ সম্পদের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ দিয়েছে। ডিআর কঙ্গো সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
