২০তম এশিয়ান গেমস: ২৬টি ডিসিপ্লিনে লড়বে বাংলাদেশ

আসন্ন ২০তম এশিয়ান গেমস এবং ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এক বিশাল বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাহী কমিটির সাম্প্রতিক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া মানচিত্রকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে পরিচিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ মোট ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন খেলায় (ডিসিপ্লিন) অংশগ্রহণ করবে। বিওএ জানিয়েছে, এই ২৬টি ডিসিপ্লিনে মোট ২০২ জন ক্রীড়াবিদ বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহন করবেন। ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলার পাশাপাশি আর্চারি, শুটিং এবং কাবাডির মতো পদক জয়ের সম্ভাবনাপূর্ণ খেলাগুলোতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

নিচে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী খেলাগুলোর একটি তালিকা প্রদান করা হলো:

বিভাগখেলার নাম (ডিসিপ্লিনসমূহ)
মাঠ ও জলজসাঁতার, অ্যাথলেটিকস, হকি, ফুটবল, ক্রিকেট।
কমব্যাট স্পোর্টসবক্সিং, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, রেসলিং, উশু।
শুটিং ও আর্চারিশুটিং, আর্চারি।
র‍্যাকেট ও অন্যান্যব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, গলফ, সাইক্লিং, ফেন্সিং।
জিমনাস্টিক ও ওয়েটজিমন্যাস্টিকস, ভারোত্তোলন।
দলগত ও বিচ গেমসবাস্কেটবল, বিচ হ্যান্ডবল, কাবাডি, রাগবি, সার্ফিং, বিচ ভলিবল।

কমনওয়েলথ গেমসে সীমিত অংশগ্রহণ

এশিয়ান গেমসের পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট মাসে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসেও বাংলাদেশ অংশ নেবে। তবে সেখানে অংশগ্রহণ হবে কিছুটা সীমিত। বিওএ-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ কেবল ৫টি ডিসিপ্লিনে অ্যাথলেট পাঠাবে। এই খেলাগুলো হলো— অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার ও ভারোত্তোলন। মূলত পদক জয়ের সম্ভাবনা এবং প্রতিযোগিতার মান বিবেচনা করে এই ক্ষুদ্র বহর নির্বাচন করা হয়েছে।

অলিম্পিক কমপ্লেক্স ও দূরদর্শী পরিকল্পনা

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিওএ-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স’। গত সভায় এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওএ-এর সভাপতি এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি তার বক্তব্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে যুবসমাজকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদরা দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

বিওএ-এর এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নির্দেশ করছে যে, বাংলাদেশ কেবল অংশগ্রহণের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। বিশেষ করে ক্রিকেট ও কাবাডিতে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অতীত সাফল্যের ধারা বজায় রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।