ইউক্রেনে মাছ ধরার জালে আটকাচ্ছে রুশ ড্রোন

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও বেসামরিক মানুষকে রুশ ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে দেশজুড়ে একটি অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক, জেলে ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি ব্যবহার করছেন পুরনো বা অব্যবহৃত মাছ ধরার জাল, নানা ধরনের নেট ও ট্র্যাপ, যা ড্রোনকে আকাশে আটকাতে সহায়তা করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

রাশিয়ার ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ও সামরিক ঘাঁটি। এগুলো সামনের সারির ইউনিটগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে হামলা শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনার দিকে সীমাবদ্ধ নয়; হাসপাতাল, বাজার, সরকারি অফিসসহ সাধারণ মানুষও নিয়মিত হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরটি এর অন্যতম উদাহরণ। খেরসন শহরের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ রক্ষাকারী সড়কগুলোকে ইউক্রেনীয়রা ‘জীবনের রাস্তা’ নামে অভিহিত করছে।

খেরসন সামরিক প্রশাসনের উপপ্রধান ওলেজান্দার টোলোকোননিকভ গত নভেম্বর সিএনএনকে জানান, “প্রতি সপ্তাহে রাশিয়া আমাদের এলাকায় গড়ে ২ হাজার ৫০০টি ড্রোন ছুড়ছে। চলতি বছরে এই হামলায় খেরসন অঞ্চলে ১২০ জন নিহত হয়েছেন।”

জাতিসংঘের ইউক্রেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘাত-সংক্রান্ত সহিংসতায় অন্তত ২,৫১৪ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২,১৪২ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিহত সামরিক লড়াই থেকে অনেক দূরে ছিলেন।

খেরসনে গত এক বছরে ড্রোন প্রতিরোধের জন্য জালের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের আঙিনা, জেনারেটর এবং বাজারের উপর সুরক্ষামূলক নেট টানা হয়েছে। খোলা সড়কে খুঁটি বসিয়ে জালের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। টোলোকোননিকভ জানিয়েছেন, “রাস্তা সুরক্ষিত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জালের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জাল পরীক্ষা করে আমরা টেকসই হওয়া যাচাই করেছি। এ পদক্ষেপের ফলে আমাদের সেনাবাহিনী রাশিয়ার ছোড়া ড্রোনের ৮০–৯৫ শতাংশ ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে।”

ইউরোপজুড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ট্রাকের মাধ্যমে ইউক্রেনে এই জাল পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ‘লাইফ গার্ডিয়ানস’। তাদের নেতৃত্বে ক্লাস পটের দল ইতিমধ্যে ৮,০০০ টনের বেশি জাল পাঠিয়েছে, যা মোট প্রাপ্ত জালের প্রায় অর্ধেক।

নিচের টেবিলে খেরসনে ড্রোন হামলার প্রভাব ও প্রতিরোধের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

বিষয়তথ্য
গড়ে সাপ্তাহিক ড্রোন হামলা২,৫০০টি
চলতি বছরের খেরসনে নিহত১২০ জন
২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতনিহত ২,৫১৪ জন, আহত ১২,১৪২ জন
ড্রোন ধ্বংসের সফলতা৮০–৯৫%
ইউরোপ থেকে পাঠানো জাল৮,০০০ টন (প্রায় অর্ধেক মোট জাল)

এই অভিনব উদ্যোগ সেনা এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের প্রতিরোধ কৌশলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।