ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় এক বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টের প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পোস্টটি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে কর্মজীবী নারীদের ‘আধুনিক পতিতাবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ মন্তব্য তীব্র সমালোচনার ঝড় তোলে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান পথ বরাবর প্রদক্ষিণ করে এবং শাহবাগ এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল ও সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিক ধরনের স্লোগান দেন এবং পোস্টটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন মিছিল ও সমাবেশে সরাসরি নেতৃত্ব প্রদান করেন। সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নারীর মর্যাদা রক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
একই দিনে সকাল ১১টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমীরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। বিকাল ৫টার দিকে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় ও অংশগ্রহণকারীদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| বিক্ষোভের সময় | রোববার দুপুর ১২টা |
| শুরু বিন্দু | মধুর ক্যান্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| সমাবেশের স্থান | শাহবাগ, ঢাকা |
| প্রধান নেতা | রাকিবুল ইসলাম রাকিব (সভাপতি), নাছির উদ্দীন (সাধারণ সম্পাদক) |
| অংশগ্রহণকারী | ঢাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা |
| পোস্টের বিষয় | কর্মজীবী নারীদের ‘আধুনিক পতিতাবৃত্তি’ হিসাবে তুলনা |
| জামায়াতের মন্তব্য | এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা |
বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “নারীর মর্যাদা ও সমাজে তাদের অবদানকে ছোট করার এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বক্তব্য দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থী সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”
ঢাবি ছাত্রদল জানায়, ভবিষ্যতেও নারী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এই ধরনের প্রতিবাদ ও সচেতনমূলক কর্মসূচি চালানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সচেতনতার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের দায়িত্বশীলতা এবং তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আজকের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনা দেশে নারী-অধিকার, সামাজিক মূল্যবোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে।
