ইয়ামালের জাদুর কাছে হার মেনে রিয়াল মাদ্রিদ চার পয়েন্ট পিছিয়ে গেল বার্সেলোনার

বার্সেলোনা যুব তারকা ইয়ামাল লামিনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য এলচের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে লা লিগা টেবিলের শীর্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা রিয়াল মাদ্রিদকে চার পয়েন্টে পেছনে ফেলেছে। হান্সি ফ্লিকের দল এখন স্প্যানিশ লিগে দৃঢ়ভাবে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে গেছে।

ম্যাচের সূচনায় ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। ষষ্ঠ মিনিটে দানি ওলমোর নিখুঁত থ্রু পাস ধরে তিনি এলচে গোলরক্ষক ইনাকি পেনাকে চমৎকারভাবে ফাঁকা জালে বল পাঠান। এই গোলে বার্সেলোনা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং ম্যাচে ছন্দ ধরে।

২৯ মিনিটে এলচে সমতা ফেরায়। আলভারো রদ্রিগেজ বার্সেলোনার হাই ডিফেন্স লাইন ব্যবহার করে একা ছুটে গিয়ে দূরের কর্নারে নিখুঁত শটে গোল করেন। তবে সমতা দীর্ঘ স্থায়ী হয়নি। ৪০ মিনিটে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের কাটব্যাক থেকে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী শটে বার্সেলোনা আবার এগিয়ে যায়।

বিরতির পরও নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণভাবে ইয়ামালের হাতেই। ডান প্রান্ত থেকে বারবার এলচের রক্ষণ ভাঙেন তিনি। ৭২ মিনিটে ইয়ামালের নিচু পাস থেকে বদলি নামা মার্কাস রাশফোর্ড সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করেন এবং ব্যবধান দুই গোলে উন্নীত হয়।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো নিম্নরূপ:

সময়কালগোলদাতাসহকারীগোলের বিবরণ
6’ইয়ামাল লামিনদানি ওলমোইনাকি পেনা ছাড়িয়ে ফাঁকা জালে
29’আলভারো রদ্রিগেজহাই ডিফেন্স ভাঙে দূরের কর্নারে শট
40’ফেরান তোরেসফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকাটব্যাক থেকে শক্তিশালী শট
72’মার্কাস রাশফোর্ডইয়ামাল লামিননিচু পাস থেকে ট্যাপ-ইন

ইয়ামাল শুধুমাত্র গোলেই অবদান রাখেননি; তিনি একাধিক সুযোগ তৈরি করেছেন এবং পুরো ম্যাচে এলচে রক্ষণভাগকে চাপের মধ্যে রেখেছেন।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি বার্সেলোনার শেষ ১৬ ম্যাচে ১৫তম জয়। এই জয়ে শিরোপা প্রতিযোগিতায় দলের মনোবল বাড়িয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদের ওপর চাপ আরও তীব্র করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ রবিবার তাদের এক ম্যাচ কম খেলে ঘরের মাঠে রায়ো ভায়েকানোর মুখোমুখি হবে।

এবারকার লা লিগার শীর্ষের অবস্থান এবং রিয়াল মাদ্রিদের পার্থক্য নিম্নরূপ:

দলম্যাচ খেলাজয়সমতাহারগোলপার্থক্যপয়েন্ট
বার্সেলোনা201532+2548
রিয়াল মাদ্রিদ191423+2044

বার্সেলোনার এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্প্যানিশ লিগে শীর্ষস্থানের জন্য তাদের ধাওয়া আরও দৃঢ় হলো। ইয়ামাল লামিন অবশ্যই এই ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন।