টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিষয়টি মূলত খেলোয়াড়দের অধিকার ও অংশগ্রহণ শর্তাবলিকে কেন্দ্র করে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) আইসিসির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনেছে যে, তাদের নতুন শর্তাবলি খেলোয়াড়দের ‘শোষণমূলক’ অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
ডব্লিউসিএর দাবি, আইসিসি ২০২৬ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য যে অংশগ্রহণ শর্তাবলি প্রেরণ করেছে, তা ২০২৪ সালের পূর্বের চুক্তির সঙ্গে মেলে না। এই চুক্তিতে মূলত খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সত্তার অধিকার—নাম, ছবি, ইমেজ, বায়োলজিক্যাল ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স—সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
আইসিসি পাল্টা জবাবে জানিয়েছে যে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবলমাত্র আটটি প্রধান ক্রিকেট বোর্ডের (এনজিবি) জন্য প্রযোজ্য। এই বোর্ডগুলো হলো: অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ এই তালিকায় নেই, কারণ তারা ভারত সফরে অংশ নেওয়ার জন্য রাজি হয়নি।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট ১৫ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের কাছে প্রেরিত এক মেমোতে উল্লেখ করেছেন, নতুন শর্তাবলিতে খেলোয়াড়দের সম্মতি ছাড়া তাদের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, গণমাধ্যমে উপস্থিতি এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি-সহ আটটি ক্ষেত্রে আগের চুক্তির সঙ্গে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে।
ডব্লিউসিএর দাবি, নতুন শর্তাবলি খেলোয়াড়দের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে, বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল বা অপেশাদার। মোফাট বলেন, “অনেক খেলোয়াড়ের জন্য বিশ্বকাপই তাদের আয়-উপার্জনের প্রধান উৎস। আইসিসির এই শর্তগুলো তাদেরকে সম্ভাব্য শোষণের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
নিচের টেবিলে বিতর্কিত মূল বিষয়গুলো ও সংশ্লিষ্ট অবস্থান সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | ২০২৪ চুক্তি | ২০২৬ শর্তাবলি (আইসিসি) | ডব্লিউসিএর অবস্থান |
|---|---|---|---|
| ছবি ও ইমেজ ব্যবহার | সীমিত, সংগঠনের অনুমতি প্রয়োজন | খেলোয়াড়ের সম্মতি ছাড়াই তৃতীয় পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে | খেলোয়াড়ের অনুমতি অপরিহার্য |
| বায়োলজিক্যাল তথ্য | খেলোয়াড়ের মালিকানাধীন | আইসিসি মালিকানায় নেবে | তথ্যের মালিক নিজেই খেলোয়াড় |
| গণমাধ্যমে উপস্থিতি | খেলোয়াড় আলোচনা করে নির্ধারণ | বোর্ড নির্ধারণ করবে | খেলোয়াড়ের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত থাকা উচিত |
| ড্রেসিংরুম প্রবেশ | সংবিধান অনুযায়ী সীমিত | বোর্ডের অনুমতি ছাড়া সীমা নেই | খেলোয়াড়ের অনুমতি প্রয়োজন |
| আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি | খেলোয়াড়/সংগঠন আলোচনার অধীনে | বোর্ডের একচেটিয়া অধিকার | স্বচ্ছ ও খেলোয়াড়কেন্দ্রিক হওয়া প্রয়োজন |
এ পর্যন্ত আইসিসি ডব্লিউসিএর পরবর্তী চিঠির জবাব দেননি। ক্রিকেটবিশ্বের নজর এখন এই দ্বন্দ্বের দিকে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই বিতর্ক খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
