রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার মস্কোতে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ক্রেমলিনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুতিন লারিজানিকে রাশিয়ার রাজধানীতে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বৈঠকে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও কিছু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয় আলোচিত হয়েছে। যদিও আলোচনার বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি, তবুও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈঠকের দিনই পুনরায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তি করতে চায়, যাতে সামরিক সংঘাত এড়ানো যায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও চাপের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রাশিয়া ও ইরান সম্পর্কের পটভূমি বিবেচনা করলে দেখা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান রাশিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, এই সফরের বিষয় আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। তবে এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দেয়। মস্কোতে ইরানের দূতাবাসও সামাজিক মাধ্যমে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিচের টেবিলে দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | রাশিয়া | ইরান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সামরিক সহযোগিতা | উচ্চ | গুরুত্বপূর্ণ | ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ঘনিষ্ঠ সমর্থন |
| অর্থনৈতিক সম্পর্ক | বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় | তেল ও গ্যাস রপ্তানি | সহযোগিতা সম্প্রসারণ লক্ষ্য |
| আন্তর্জাতিক সমর্থন | ইরানের কূটনৈতিক সমর্থন | রাশিয়ার সমর্থন | জাতিসংঘে বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে |
| পারমাণবিক কর্মসূচি | মধ্যস্থতা প্রস্তাব | বিতর্কিত উন্নয়ন | সম্ভাব্য চুক্তির জন্য আলোচনা |
এ বৈঠক কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি সমতুল্যতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা ভবিষ্যতে মার্কিন-ইরান সম্পর্ক ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
