ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ পুনরায় ব্যক্ত করেছে, তবে সে ক্ষেত্রে আলোচনার পরিবেশকে “ন্যায্য, সমন্বিত ও সম্মানজনক” হিসেবে গড়ে তোলার শর্ত আরোপ করেছে। তুরস্কের এক সরকারি সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মিলিটারি হুমকি, চাপ বা ভীতি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যুক্তি দেন যে, অর্থবহ কূটনীতি কেবলমাত্র পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্ভব।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি বলেন, সংলাপ ইরানের কূটনৈতিক নীতির একটি মূল স্তম্ভ। তিনি বলেন, তেহরান দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় আলোচনার প্রতি কোনো নীতিগত বিরোধ রাখে না এবং কূটনীতি আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হুমকি বা চাপের আড়ালে পরিচালিত আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
আনকারায় তার তুর্কি সমকক্ষ হাকান ফিদানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা আলোচনার বিষয় নয়। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব এবং ইরান এই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে।
এই বিবৃতিগুলি আসে এমন এক সময়ে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা অস্বীকার করেননি, তবে একই সঙ্গে বলেছেন যে তার প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট একটি টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | মূল তথ্য |
|---|---|
| ইরানের আলোচনার শর্ত | সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনা গ্রহণযোগ্য |
| অচল বিষয় | প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | আলোচনার সঙ্গে সামরিক চাপ বজায় রাখার দাবি |
| পারমাণবিক চুক্তি | ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহার |
| আঞ্চলিক মধ্যস্থতা | তুরস্ক ও অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোর উদ্যোগ |
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফা বের হয়ে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ছে। ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং কোনো অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য নেই।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো—তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব—উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক তাপমাত্রা কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদিও কঠোর ভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি সংলাপই উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
