কৌশিক তাপস: বিদেশ যাত্রা স্থগিত ও তদন্ত

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত দেশের আলোচিত গায়ক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গানবাংলার চেয়ারম্যান কৌশিক হোসেন তাপস-এর বিদেশ যাত্রা স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে আদালত তাপস, তাঁর স্ত্রী ফারজানা মুন্নী (ফারজানা আরমান) এবং তাদের সন্তানদের নামে থাকা আয়কর সংক্রান্ত নথি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে।

সিআইডির উপপুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান আদালতে জানিয়েছেন, উত্তরা পূর্ব থানায় তাপসের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর মানি লন্ডারিং-এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সেক্ষেত্রে, দেশের বাইরে গেলে তাপস পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আদালত তাঁর বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, তাপস ও তাঁর পরিবারের আয়কর নথি পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। অনুসন্ধান অনুযায়ী, তাপসের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অধিকাংশ দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়া গেলেও তাপস এবং তার পরিবারের নামে থাকা আয়কর নথি এখনও পাওয়া যায়নি।

সিআইডি-এর আবেদনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্তকৌশিক হোসেন তাপস
পরিবারস্ত্রী: ফারজানা মুন্নী, সন্তানরা
মামলাহত্যাচেষ্টা, মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান
তদন্তকারীসিআইডি, উপপুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান
আদালতের আদেশবিদেশ যাত্রা নিষেধ, আয়কর নথি তলব
প্রাথমিক ঘটনা৩ নভেম্বর ২০২৪ প্রথম আটক, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গ্রেপ্তার, ২০২৫ জুনে জামিনে মুক্তি

কৌশিক তাপসকে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর প্রথমে আটক করা হয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের গণ–অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সাত মাসের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২৫ সালের জুনে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

তদন্তকারীরা বলছেন, তাপসের বিদেশ যাত্রা বন্ধ এবং আয়কর নথি সংগ্রহের উদ্যোগ মানি লন্ডারিং ও সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে কৌশিক তাপস ও তাঁর পরিবারের সম্পদের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিরীক্ষণ করা সহজ হবে। এছাড়া, দেশের আর্থিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি একটি প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।