বরিশাল-৫ আসনের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় টক শো ‘জনতার দরবার’-এ ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। বুধবার রাতে তিনি ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছে এবং নারীবিদ্বেষমূলক মনোভাবকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
ডা. মনীষা বলেন, “অনুষ্ঠানের মাঝপথে আমাকে হঠাৎ করে মঞ্চ ত্যাগ করতে বলা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনার নীতিমালা অনুযায়ী অতিথিদের পর্যায়ক্রমে সরানোর সুযোগ থাকলেও, অন্য অতিথিদের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থার কোনো নজির দেখা যায়নি। এটি একটি মিথ্যা অজুহাত, যা স্বচ্ছতা ও সততার অভাবের প্রমাণ।”
তিনি আরও বলেন, বরিশাল-৫ আসনের আরেক প্রার্থী নারীর সঙ্গে একই মঞ্চে বসতে অস্বস্তি বোধ করায় তার মঞ্চ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে “নারীবিদ্বেষের চরম প্রকাশ” হিসেবে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এই আচরণ সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী।
ডা. মনীষা যুক্তি দেন, “একজন আমন্ত্রিত অতিথিকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হলো, যা পেশাদার সাংবাদিকতার মানদণ্ডের সরাসরি লঙ্ঘন। যদি আগেই জানানো হত যে এমন একজন অতিথি থাকবেন, যিনি নারীর সঙ্গে বসতে অনিচ্ছুক, আমি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতাম না।”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, “যিনি জনসংখ্যার অর্ধেক অংশের প্রতিনিধিত্বকারী নারীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে পারেন না, তিনি কি সত্যিই সব মানুষের প্রতিনিধি হতে পারবেন?” তার মতে, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এমন মনোভাব একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নজির স্থাপন করেছে।
বাসদ বরিশাল জেলা কমিটি বৃহস্পতিবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সাংবাদিকতার স্বচ্ছতা এবং নারী প্রতিনিধিত্বের সম্মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | বেসরকারি টক শোতে ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীকে হঠাৎ মঞ্চ থেকে সরানো |
| সময় | বুধবার রাত, ফেসবুক লাইভের আগে ও পরে |
| যুক্তি | অন্য অতিথি নারীর সঙ্গে বসতে অস্বস্তি বোধ করায় সরানো হয়েছে |
| অভিযোগ | নারীবিদ্বেষ, সাংবাদিকতার নৈতিকতার লঙ্ঘন, অসদাচরণ |
| প্রতিক্রিয়া | বাসদ বরিশাল জেলা কমিটি থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ |
| প্রভাব | নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নজির, সাংবাদিকতার স্বচ্ছতার অভাব |
এই ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের মনোভাব প্রচারমাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা দিতে পারে।
