স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে ছুরিকাঘাতে আহত

ফরিদপুরের ফরিদপুর-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে একটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার কেন্দ্রভিত্তিক এই সংসদীয় এলাকায় বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থক রবিন ও আলিফকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

ঘটনাটি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দস্তুরদিয়া গ্রামে সংঘটিত হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যানার টানাতে গেলে বিএনপি সমর্থক জিহাদ বাধা দেয়। একপর্যায়ে জিহাদ তাদের উপর ছুরি চালায়, ফলে রবিন ও আলিফ গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খান ঘটনাস্থল ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানিয়ে বলেন,

“আমার সমর্থকরা যখন ব্যানার টানছিলেন, তখন বিএনপি সমর্থক জিহাদ হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘এখানে অন্য প্রার্থীর ব্যানার লাগানো যাবে না।’ তাদের দূরে সরানোর পরও জিহাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে আমার সমর্থকদের আঘাত করে। এটি কীভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে?”

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম জানান,

“আমার সমর্থকরা কখনো এ ধরনের সহিংসতা করে না। আমি এরকম কোনো ঘটনা জানি না। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের ঋণজনিত সমস্যা বা পাওনাদারের সঙ্গে কোনো জটিলতা এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।”

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাইজুর রহমান বলেন,

“আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। শুনেছি ছেলেটি মাদকাসক্ত। ব্যানার টানার সময় কুপিয়েছে কি না, তা সঠিকভাবে জানা নেই। তবে কুপিয়েছে—এটি সত্য। এ ঘটনায় এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিচের টেবিলটিতে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
স্থানজাহাপুর ইউনিয়ন, মধুখালী, ফরিদপুর
তারিখ ও সময়২৮ জানুয়ারি, বিকেল ৫:৩০ মিনিট
আহতরবিন ও আলিফ (স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক)
হামলাকারীজিহাদ (বিএনপি সমর্থক, স্থানীয়)
আঘাতের ধরনছুরি দ্বারা আঘাত
হাসপাতাল ভর্তিফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
পুলিশের মন্তব্যকাউকে আটক করা যায়নি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই ঘটনা ফরিদপুর-১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।