ঢাকা-কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন পথ উন্নয়ন

ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালানোর পথ তৈরিতে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস রেললাইনের অভাব রেলযাত্রা ও পণ্য পরিবহনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম স্টেশনে গিয়ে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে, লাইন পরিবর্তনের মাধ্যমে কক্সবাজার পৌঁছায়। এতে যাত্রী ও পণ্যের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং রেলের চলাচল জটিল হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার রেললাইন ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর চালু হলেও তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, বাইপাস রেললাইন নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি। মূলত এটি আলাদা প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার চট্টগ্রাম–দোহাজারী ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক পাঁচ বছর সময় লাগবে। ফলে বাইপাস লাইনের নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনগুলো চট্টগ্রামে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে চলাচল করবে।

চট্টগ্রামে সরাসরি ট্রেন চলাচলের জন্য পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস নির্মাণ অপরিহার্য। এই লাইনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে আসা ট্রেনগুলো পাহাড়তলী স্টেশন ও মার্শালিং ইয়ার্ড ব্যবহার করে সরাসরি কালুরঘাট সেতু অতিক্রম করে কক্সবাজার পৌঁছাবে। এতে আনুমানিক এক ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুট দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেল রুট। এখানে মোট যাত্রীর ৩২ শতাংশ এবং পণ্যের ৫৫ শতাংশ পরিবহন করা হয়। এটি রেলের সবচেয়ে লাভজনক রুট হিসেবেও পরিচিত।

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজারে “কক্সবাজার এক্সপ্রেস” এবং “পর্যটক এক্সপ্রেস” ট্রেন দুটি চলাচল করছে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে চলতে বর্তমানে ৮–৯ ঘণ্টা সময় লাগে। সরাসরি ট্রেন চালু হলে আনুমানিক সময় ৭–৮ ঘণ্টা হবে।

চট্টগ্রাম–দোহাজারী ৫২ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের জন্য এডিবি-সহায়তা নিশ্চিত হওয়ার পরে, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর চুক্তি সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০,৭৯৭.৮৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে এডিবির ঋণ সহায়তা ৬৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৪০৫ কোটি টাকা) এবং বাকি সরকার দেবে।

রেলের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীন জানিয়েছেন, “ঢাকা–কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন চালানো রেলের অগ্রাধিকার। বাইপাস রেললাইন প্রকল্প শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা থাকবে না এবং দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব।”

ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন সময়সূচি (বর্তমান ও সরাসরি ট্রেন চালু হলে)

রুট/বিকল্পবর্তমান সময়সরাসরি ট্রেন হলেসময় সাশ্রয়
ঢাকা–কক্সবাজার৮–৯ ঘণ্টা৭–৮ ঘণ্টা~১ ঘণ্টা
ঢাকা–চট্টগ্রাম৪–৫ ঘণ্টাঅপরিবর্তিত
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার৪–৫ ঘণ্টাঅপরিবর্তিত