চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত সাংহাইয়ে অনলাইন প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য ফেরত না দিয়েই অর্থ ফেরত নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্যে উঠে এসেছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং অনলাইন বাণিজ্যে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত কিশোরটি গত বছর একটি জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের রিফান্ড ব্যবস্থায় ত্রুটি শনাক্ত করে। সাধারণত কোনো পণ্য ফেরত পাঠানোর পর নির্দিষ্ট কুরিয়ার নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কিশোর ভুয়া কুরিয়ার ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে দেখাতে সক্ষম হতো যে পণ্যটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাস্তবে সে পণ্য নিজের কাছেই রেখে দিত এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পেত।
এই প্রতারণার মূল লক্ষ্য ছিল প্রসাধনী সামগ্রী, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। কয়েক মাসের মধ্যেই সে প্রায় ১১ হাজার ৯০০টি ভুয়া রিফান্ড আবেদন জমা দেয়। পরে প্রাপ্ত পণ্যগুলো বিভিন্ন সেকেন্ড-হ্যান্ড অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করে।
তদন্তে জানা যায়, এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার মূল্যের পণ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলো বিক্রি করে আনুমানিক ৫ লাখ ৭৪ হাজার ডলার লাভ করে। এর পাশাপাশি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকেও সমপরিমাণ অর্থ রিফান্ড হিসেবে পেয়েছে সে। অর্থাৎ, একই পণ্য থেকে দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে সে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের।
চীনের গণমাধ্যম জানায়, এই অর্থ দিয়ে কিশোরটি দামি স্মার্টফোন, ব্র্যান্ডেড পোশাক, ভিডিও গেমিং কনসোলসহ নানা বিলাসপণ্য কিনেছে। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণ ও বিনোদনেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। তার জীবনযাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নজরে আসে এবং অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে বিষয়টি ধরা পড়ে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তের অপরাধ গুরুতর হলেও তার বয়স বিবেচনায় নিয়ে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনের আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব পায়। সে কারণে সম্ভাব্য কঠোর শাস্তির পরিবর্তে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযুক্তের বয়স | ১৭ বছর |
| অপরাধের ধরন | ভুয়া রিফান্ডের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণা |
| মোট ভুয়া আবেদন | ১১,৯০০টি |
| সংগৃহীত পণ্যের মূল্য | প্রায় ৬৮০,০০০ ডলার |
| বিক্রয়লব্ধ মুনাফা | প্রায় ৫৭৪,০০০ ডলার |
| আদালতের সাজা | ছয় বছরের কারাদণ্ড |
এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখায়, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ও অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সতর্কবার্তা—প্রযুক্তিগত দক্ষতা যদি নৈতিকতার সঙ্গে না চলে, তবে তা ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
