যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর ও কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে একটি যুগান্তকারী মামলা শুরু হতে যাচ্ছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেটা (ফেসবুকের মূল সংস্থা), টিকটক এবং ইউটিউব। অভিযোগের ভিত্তি হলো, এই প্ল্যাটফর্মগুলো ডিজিটাল আসক্তি সৃষ্টি করে এবং কিশোরদের মধ্যে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যামুখী চিন্তা বৃদ্ধির মতো সমস্যা উদ্রেক করে।
মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে বিচারাধীন হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ মামলা, যেখানে ব্যবহারকারীর মানসিক ক্ষতির দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার হতে পারে।
বাদী একজন ১৯ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ান তরুণী, যাকে আদালতের নথিতে ‘কে জি এম’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুসারে, অল্প বয়সে ডিজিটাল মনোযোগ ধরে রাখার নকশা এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে তিনি প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়েন। এর ফলে তার মধ্যে বিষণ্নতা, আতঙ্ক এবং আত্মহত্যামুখী চিন্তার বৃদ্ধি ঘটেছে। তিনি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহারকারীদের কনটেন্টের জন্য ব্যাপক আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। মেটা ও টিকটক দাবি করছে, এই আইন তাদের ‘কে জি এম’-এর মামলায়ও দায়মুক্তি দেবে। তবে, আদালতের রায় যদি তাদের বিপক্ষে আসে, তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।
শুনানির প্রাক্কালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কিশোরদের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম প্রচারণা জোরদার করেছে। নতুন ফিচার চালু করা হয়েছে, যা অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সহায়তা করবে। প্রচারণা ও নিরাপত্তা উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার রায় ভবিষ্যতে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নকশা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
নিচের টেবিলে মামলার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মামলার স্থান | লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি, ক্যালিফোর্নিয়া |
| আদালত | সুপিরিয়র কোর্ট |
| বাদী | কিশোরী ‘কে জি এম’, ১৯ বছর বয়সী |
| অভিযুক্ত | মেটা, টিকটক, ইউটিউব |
| অভিযোগ | কিশোরদের ডিজিটাল আসক্তি, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি |
| সম্ভাব্য প্রভাব | প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আইনি সুরক্ষা কমতে পারে |
| প্রস্তুতি | নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম প্রচারণা, অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ফিচার চালু |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা শুধু প্রযুক্তি খাতের জন্য নয়, শিশু কল্যাণ ও ডিজিটাল নীতি-নির্ধারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। রায় যেভাবেই আসুক, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নকশা, দায়িত্ব ও শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
