ডাম্প ট্রাকের চাপায় লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছেন এবং অটোরিকশা চালক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই ঘটনা জেলা জুড়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দুর্ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল প্রায় ৯:১৫টায় লক্ষ্মীপুর–ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের এলজিইডি ভবনের কাছে। নিহত ছাত্রী আফরিন আক্তার কাকলী শিশু আঙ্গনের ছাত্রী এবং আক্তার পতুয়ার কন্যা। ঘটনার সময় তিনি অটোরিকশায় ছিলেন এবং সঙ্গে ছিলেন চালক মোহাম্মদ রাজু।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দ্রুতগামী একটি ডাম্পার ট্রাক অটোরিকশাটিকে আঘাত করলে তা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে আফরিন ও রাজু উভয়েই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসক আফরিনকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওহিদ পারভেজ জানান, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ডাম্পার ট্রাকটি আটক করা হয়েছে, তবে চালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে এবং এখনও আটক হয়নি। সড়ক ও হাইওয়ে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উচ্চ গতির যানবাহন এবং সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। “এই ঘটনা শিশু ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য দৃঢ় সড়ক নিরাপত্তা নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে,” একজন কর্মকর্তা বলেন।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করছেন যে, ব্যস্ত সড়কে স্কুলছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাফিক ধীরগতি ব্যবস্থা, নিরাপদ পথচারী ক্রসিং এবং দ্রুতগামী গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।

দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নিম্নে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিবরণতথ্য
দুর্ঘটনার তারিখ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সময়সকাল ৯:১৫
স্থানএলজিইডি ভবন এলাকা, লক্ষ্মীপুর–ঢাকা আঞ্চলিক সড়ক
নিহতআফরিন আক্তার (১০ বছর)
আহতমোহাম্মদ রাজু (অটোরিকশা চালক)
চিকিৎসাঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর
দুর্ঘটনার ধরনঅটোরিকশা ডাম্পার ট্রাকের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ
পুলিশ মন্তব্যডাম্পার ট্রাক আটক, চালক পলাতক; হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত করছে

সড়ক নিরাপত্তা সংরক্ষকরা জানান, এমন দুর্ঘটনা শিশুসহ দুর্বল পথচারীদের জন্য প্রলয়ঙ্কর সতর্কবার্তা। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুতগতির নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পথচারী রুট এবং জনসচেতনতা অভিযান গ্রহণ জরুরি।