বালির নিচে লুকানো ছিল মরণনেশা: নুনিয়াছড়ায় বড় মাদক চালান জব্দ

কক্সবাজারের উপকূলে মাদক পাচারকারীদের এক অভিনব কৌশল নস্যাৎ করে দিয়েছে র‍্যাব-১৫। শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার গহিন প্যারাবনে বালির নিচে পুঁতে রাখা প্রায় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা ও হেরোইনের একটি বিশাল চালান জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদক সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা সীমান্ত দিয়ে আসা এই মরণনেশা দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল।

গোয়েন্দা তথ্যে র‍্যাবের সফল হানা

র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম খান জানান, তাদের কাছে গোপন খবর ছিল যে সাগরপথে আসা মাদকের একটি বড় চালান উত্তর নুনিয়াছড়া উপকূলের প্যারাবনে মজুত করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে র‍্যাবের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্যারাবনের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি ও বালি খুঁড়ে প্লাস্টিকের দুটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলো খুলে দেখা যায় ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

উদ্ধারকৃত মাদকের বিবরণ ও বাজারমূল্য:

মাদকের ধরণপরিমাণআনুমানিক বাজারমূল্য
ইয়াবা বড়ি৬,৩০,০০০ পিস১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা
হেরোইন১০ কেজি৫ কোটি টাকা
সর্বমোট মূল্যপ্রায় ২৪ কোটি টাকা

আটককৃত মাদক কারবারিদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তাদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:

১. মো. ইসমাইল (৪৩): চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে।

২. নজরুল ইসলাম (৪২): উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মৃত সাবের আহমেদের ছেলে।

সিন্ডিকেট ও পাচার পদ্ধতি

তদন্তে জানা গেছে, এই বিশাল চালানটি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সাগরপথে ট্রলারের মাধ্যমে কক্সবাজার উপকূলে আনা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা লোকালয়ে মাদক না রেখে নির্জন প্যারাবনে বালিচাপা দিয়ে রেখেছিল। পরিকল্পনা ছিল, সুযোগ বুঝে ছোট ছোট চালানে এগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে সরবরাহ করা। র‍্যাব জানায়, এই চক্রের সাথে সীমান্তের ওপার ও এপারে প্রভাবশালী কিছু মহলের যোগসূত্র রয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক হুঁশিয়ারি

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম খান স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। এই সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত করতে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা চলমান রয়েছে।”

উপসংহার

২৪ কোটি টাকার এই মাদক উদ্ধার কক্সবাজার অঞ্চলে র‍্যাবের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাফল্য। তবে পাচারকারীদের নিত্যনতুন কৌশল এবং প্যারাবনের মতো দুর্গম এলাকাকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের তথ্যের আদান-প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।