গম পাচার মামলায় নুসরাত তলব

ভারতের রেশন দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানকে আবারও তলব করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই, ২২ এপ্রিল তাঁকে সংস্থার দপ্তরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে চলমান রেশন দুর্নীতি তদন্তে নুসরাত জাহানের নাম উঠে আসে। অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে গম পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনায় অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

নুসরাত জাহান সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট কেন্দ্রের সংসদ সদস্য ছিলেন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সময়কালকে গুরুত্ব দিয়ে তার ভূমিকা ও সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রাথমিকভাবে তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হলেও পরে তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে দিল্লির দপ্তরে হাজিরার আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দিল্লিতে হাজির হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এখনো নুসরাত জাহানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ভ্রমণ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যদিও তা এই তদন্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত একটি দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল। সেই ঘটনার পর আবারও একই সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন করে ডাকা হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিচে মামলার প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
মামলার প্রকৃতিরেশন দুর্নীতি ও গম পাচার সংক্রান্ত অভিযোগ
অভিযুক্ত ব্যক্তিনুসরাত জাহান
পূর্ববর্তী পদবসিরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য
তদন্তকারী সংস্থাকেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট
তলবের তারিখ২২ এপ্রিল
সম্ভাব্য স্থানদিল্লির দপ্তর (আবেদন অনুযায়ী)
তদন্তের বিষয়গম পাচার সময়কার আর্থিক লেনদেনের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা

তদন্তের অগ্রগতি ও জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গেছে।