পাকিস্তানের কথায় বাংলাদেশ হারাতে পারে ক্রিকেট

লিখেছেন: এবিএম জাকিরুল হক টিটন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বর্তমানে একটি গভীর সংকটের মুখোমুখি। ইউনুস সরকারের প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দেশের ক্রিকেটকে দিশাহীনতার পথে ঠেলে দিয়েছে। নিজস্ব বাস্তবতা, সক্ষমতা এবং ইতিহাস উপেক্ষা করে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ইঙ্গিতে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ক্রিকেটকে ব্যবহার করার প্রবণতা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, এটি সরাসরি দেশের ক্রিকেট স্বার্থের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার স্লোগান আকর্ষণীয় শোনালেও, বাস্তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ, শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো, আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা, বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। কিন্তু ইউনুস সরকারের শাসনামলে এসবের কোনোটিই কার্যকরভাবে দেখা যায়নি।

ফলাফল স্পষ্ট:

  • পরিকল্পনার অভাব

  • প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

  • ক্ষমতার অপব্যবহার

  • স্বেচ্ছাচারিতা

  • মাঠে বারবার লজ্জাজনক ব্যর্থতা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস প্রমাণ করে, কাগুজে স্লোগান বা রাজনৈতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রিকেট এগোয় না। এগিয়েছে পরিশ্রম, ধৈর্য, ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা ও সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রভাবিত সিদ্ধান্তগুলো এই পথকে ছিন্ন করে দিয়েছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরা হলো:

বিষয়বর্তমান অবস্থাপ্রভাব
ঘরোয়া ক্রিকেটঅপরিকল্পিত ও প্রাণহীননতুন খেলোয়াড়দের বিকাশ ব্যাহত
প্রশাসনিক কাঠামোঅদক্ষ ও অনিয়মিতদায়িত্বশীলতা নেই
খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎঅনিশ্চিতআন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রভাবিত
দর্শক ও সমর্থকহতাশ ও বিমুখজাতীয় সমর্থন হ্রাস
উপদেষ্টা ভূমিকানীরব ও অনাকাঙ্ক্ষিতসংস্কার কার্যকর হয়নি

ক্রিকেট শুধুই ক্ষমতার প্রদর্শন নয়; এটি জাতির আবেগ, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। আজ সেই প্রতীককে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে—কখনো প্রশাসনিক অদক্ষতায়, কখনো স্বজনপ্রীতি বা দালালচক্রের কারণে।

উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নৈতিকতার কথা বললেও, কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং সংস্কারের পদক্ষেপ না নেওয়া তাঁর ভূমিকার প্রতি গভীর প্রশ্ন তোলে। শুধুমাত্র বক্তৃতা বা বিবৃতিতে দায়িত্ব শেষ হয় না; দায়িত্ব মানে সংস্কার, কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া, অথবা প্রয়োজনে পদত্যাগ করা।

সুতরাং স্পষ্টভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বাঁচাতে হলে আসিফ নজরুলের পদত্যাগ এখন আর রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি সময়ের অনিবার্য, নৈতিক ও ঐতিহাসিক দাবি।