লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্যদের হামলায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১ শুক্রবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে ধৃত হয়েছেন।
শনিবার বিকেলে র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই স্থানীয় এবং হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।
গ্রেফতারদের তালিকা নিম্নরূপ:
| আসামি নাম | বয়স | পিতার নাম | গ্রাম/ইউনিয়ন | আসামি নম্বর |
|---|---|---|---|---|
| শাকিল বেপারী | ২৩ | মোস্তফা বেপারী | উত্তর চরবংশী, চরবংশী | ৬ |
| সোহাগ বেপারী | ১৯ | মোস্তফা বেপারী | উত্তর চরবংশী, চরবংশী | ৭ |
| মোক্তার পাটওয়ারী | ২০ | মোস্তফা পাটওয়ারী | উত্তর চরবংশী, চরবংশী | ৮ |
নিহত আশরাফুল ইসলাম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
র্যাব জানিয়েছে, ১৪ জানুয়ারি রাতে নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীর নেতৃত্বে স্থানীয় মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্যরা আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়। আশরাফুলকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনার পর, ১৬ জানুয়ারি আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক রায়পুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলার কয়েক দিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। শাহিন ধারণা করেন, আশরাফুল তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়েছে। এ ক্ষোভ থেকেই ১৪ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হয়ে শাহিন তার সহযোগীদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়।
র্যাবের বরাতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতার তিন আসামিকে রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
