ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার চিলুভুরু গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লক্ষ্মী মাধুরি নামের এক নারী দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে স্বামী লোকম শিবনাগরাজুর প্রাণনাশের পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনার দিন মাধুরি স্বামীর জন্য বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন, তবে এতে সাধারণ মশলার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন।
বিরিয়ানি খাওয়ার পর শিবনাগরাজু গভীর ঘুমে পড়ে যান। পুলিশ জানায়, মাধুরি পরে তার প্রেমিক গোপীকে ডেকে আনে এবং দুজনে মিলে শিবনাগরাজুর মুখে বালিশ চেপে ধরেন, যার ফলে তিনি শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্তে স্বাভাবিক মৃত্যুর চিহ্ন পাওয়া যায়নি; বরং শ্বাসরোধ ও বুকে আঘাতের প্রমাণ মিলেছে।
গুন্টুর জেলার পুলিশ সুপার ভাকুল জিন্দাল বলেন, “প্রাথমিকভাবে কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, মাধুরি সারারাত স্বামীর লাশের পাশে পর্ন ভিডিও দেখেছিলেন। তবে তদন্তে জানা গেছে, শিবনাগরাজু নিজেই মাধুরির মোবাইলে ভিডিও দেখতেন এবং এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হতো। হত্যাকাণ্ডের সময় এমন ভিডিও দেখা বা উপস্থিত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে মাধুরি স্বামীর মৃত্যু হৃদরোগে হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। ভোরের দিকে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। কিন্তু শিবনাগরাজুর বাবা ও বন্ধুদের সন্দেহে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে ময়নাতদন্তে হত্যার সত্যতা নিশ্চিত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাধুরি ও গোপীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক চলছিল এবং তারা যৌথভাবে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন।
ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | লোকম শিবনাগরাজু |
| অভিযুক্ত | লক্ষ্মী মাধুরি (স্ত্রী), গোপী (প্রেমিক) |
| হত্যার পদ্ধতি | ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত বিরিয়ানি খাওয়ানো, মুখে বালিশ চাপা |
| স্থান | চিলুভুরু, গুন্টুর, অন্ধ্রপ্রদেশ |
| প্রাথমিক দাবি | হৃদরোগে মৃত্যু |
| ময়নাতদন্তের ফলাফল | শ্বাসরোধ ও বুকে আঘাত, স্বাভাবিক মৃত্যু নয় |
| তদন্তের অবস্থা | প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন, বিস্তারিত তদন্ত চলমান |
মাধুরি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, গোপীর সঙ্গে মিলেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশ জানায়, মামলাটির ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলমান এবং সম্ভাব্য অন্য কোনো সহযোগীর খোঁজ চালানো হচ্ছে।
