যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজের বহর বর্তমানে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এটি মূলত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বহরটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জলসীমা থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এতে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করি, এই শক্তি ব্যবহার করতে হবে না। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং আমাদের প্রস্তুতি থাকা উচিত।” যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই নৌবহরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে বা বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “পুনরায় কঠোর ব্যবস্থা” নেবে। তিনি দাবি করেছেন, তার আগের হুমকির কারণে ইরান প্রায় ৮৪০টি ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।
এই যুদ্ধজাহাজ বহরের প্রযুক্তিগত ও সামরিক ক্ষমতার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| যুদ্ধজাহাজ | ধরন | প্রধান অস্ত্র | ক্রু সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন | বিমানবাহী রণতরী | ফাইটার জেট, ক্ষেপণাস্ত্র | ৫,০০০+ | বহরের প্রধান যুদ্ধজাহাজ |
| আরেকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার | ধ্বংসকারী | গাইডেড মিসাইল, টরপেডো | ৩০০-৩৫০ | মূল প্রতিরক্ষা ও আক্রমণক্ষমতা |
| অন্যান্য সহায়ক জাহাজ | সহায়ক | সরবরাহ ও কমিউনিকেশন | ভিন্ন | বহরের লজিস্টিক সমর্থন |
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌবহরের যাত্রা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও অতীতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রধাণত প্রতিরক্ষামূলক ছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ও বহরের অবস্থান ইরান–মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
