ভাইরাল বক্তব্যে জামায়াতের ২ কোটি ভোট বাড়ার দাবি ফয়জুল হকের

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ফয়জুল হক তাঁর সাম্প্রতিক এক আলোচিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তাঁর একটি বক্তব্যকে তিনি কেবল ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন না, বরং একে জামায়াতের জন্য বিশাল রাজনৈতিক বিজয় ও ‘মার্কেটিং’ হিসেবে দাবি করছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।

ভাইরাল বক্তব্য ও প্রার্থীর ব্যাখ্যা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফয়জুল হক বলেন, ফেসবুকে তাঁদের যেকোনো কথা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। তবে ‘বিড়ি খাওয়া’ সংক্রান্ত তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, দলীয় কর্মীদের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর গুরুত্ব বোঝাতেই তিনি ওই উদাহরণ দিয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিড়ি খাওয়া মানুষ কি আমাদের ভোট দেবে না? দাড়ি ছাড়া মানুষ কি ভোট দিতে পারবে না?” তাঁর মতে, আল্লাহ চাইলে যেকোনো মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন এবং জান্নাত-জাহান্নাম মূলত মানুষের সংশোধনের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।

ফয়জুল হকের বক্তব্য ও নির্বাচনী কৌশলের মূল পয়েন্ট:

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও প্রার্থীর দাবি
ভাইরাল বক্তব্যের প্রভাবজামায়াতের পক্ষে ২ কোটি নতুন ভোট বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
প্রচারণার কৌশলচায়ের দোকান ও বিড়ির আড্ডাতেও ‘দাঁড়িপাল্লা’র দাওয়াত পৌঁছানো।
রাজনৈতিক মার্কেটিংভাইরাল হওয়াকে ‘২ কোটি টাকার ফ্রি মার্কেটিং’ হিসেবে অভিহিত করা।
জনগণের আকাঙ্ক্ষাভোটাররা এবার ‘পরিবর্তন’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ দেখতে চায়।
নির্বাচনী অবস্থানবিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার অঙ্গীকার।

রাজনৈতিক ‘শক্তি মার্কেটিং’ ও ২ কোটির দাবি

ফয়জুল হক তাঁর বক্তব্যে ভাইরাল হওয়াকে একটি রাজনৈতিক কৌশল বা ‘শক্তি মার্কেটিং’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “একটি দুই মিনিটের বক্তব্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ফলে আমাদের জন্য দুই কোটি টাকার সমমূল্যের প্রচার হয়ে গেছে। এটি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার।” তিনি মনে করেন, এই আলোচনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জামায়াত সম্পর্কে কৌতূহল বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বিপুল ভোটে রূপ নেবে। তাঁর মতে, যারা বিড়ি খায় বা দাড়ি রাখে না, তারাও সমাজের অংশ এবং তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানো দলের দায়িত্ব।

রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় পরিবর্তনের সুর

নির্বাচন প্রসঙ্গে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে ফয়জুল হক বলেন, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম ঘুরে তিনি মানুষের মাঝে ব্যাপক পরিবর্তনের স্পৃহা লক্ষ্য করেছেন। মানুষ প্রথাগত রাজনীতির বাইরে বিকল্প শক্তির সন্ধান করছে। তিনি দাবি করেন, ভোটাররা এখন প্রকাশ্যে বলছেন যে তাঁরা সব দলকে দেখেছেন, এবার দাঁড়িপাল্লাকে সুযোগ দিতে চান। এই জনসমর্থনকে শক্তিতে রূপান্তর করে বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।

উপসংহার

ফয়জুল হকের এই বক্তব্যটি মূলত সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিড়ি খাওয়া বা সাধারণ অভ্যাসের মানুষকে অবজ্ঞা না করে তাঁদের কাছে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছানোর এই কৌশলটি অভিনব হলেও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। তবে নির্বাচনী মাঠে এই ‘ভাইরাল’ প্রচারণা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটুকু প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য ভোটগ্রহণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।