মগজে ঘুরছে কৌশলের নানা সমীকরণ; যা মিললেই কেবল বার্সেলোনা পরের রাউন্ডে পৌঁছাতে পারবে। ঠিক এমনই একটি কঠিন ম্যাচ খেলতে হলো কাতালানদের, যেখানে বাইরের তাপমাত্রা ছিল –৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শহরের স্বাভাবিক জানুয়ারির তাপমাত্রা ১৩–১৫ ডিগ্রির মধ্যে, তাই এই তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে খেলোয়ারদের যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল বার্সা। মাত্র ১০ মিনিটে স্লাভিয়া প্রাহার এগিয়ে যায়। কর্নার থেকে দেওয়া ক্রস ফ্লিক করেন টোমাস হোলেস, এবং কাছ থেকে ভাসিল কুসেই জালে বল পাঠান।
কিন্তু ফেরমিন লোপেজ এই ম্যাচে দলকে ফিরে আনার দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪ মিনিটে জিন্দরিচ স্তানেকের কাছের পোস্ট থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন তিনি। আট মিনিট পর আবারও বাঁকানো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন, যা বার্সার আশা জাগিয়ে তোলে।
স্লাভিয়া বিরতির আগে সমতা ফেরায়। ডান দিকের কর্নার থেকে আসা বল রবার্ট লেভান্ডভস্কির কাঁধে লেগে নিজের জালে ঢুকে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা আক্রমণে আরও সক্রিয় হয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে লামিনে ইয়ামাল খেলতে না পারলেও দলটির আক্রমণের ধার কমেনি। এক ঘণ্টা পর মাঠে নামেন মার্কাস রাশফোর্ড ও দানি অলমো। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে অলমো দূরপাল্লার শটে গোল করেন, যা জালের ওপরের কোণে গিয়ে লাগে। এরপর রাশফোর্ডের সহায়তায় লেভান্ডভস্কি দলের চতুর্থ গোল করেন।
এই জয়ে বার্সা টুর্নামেন্টে শেষ ষোলর রাউন্ডে থাকার আশা বজায় রেখেছে, যখন স্লাভিয়া প্রাগ সাত ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে।
নিচের টেবিলটিতে উভয় দলের প্রধান গোলদাতাদের অবদান দেখানো হলো:
| দল | খেলোয়াড় | গোল সংখ্যা | গোলের সময় | লক্ষ্য / মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| বার্সেলোনা | ফেরমিন লোপেজ | ২ | ৩৪’, ৪২’ | প্রথম ও দ্বিতীয় গোল |
| বার্সেলোনা | দানি অলমো | ১ | ৬৩’ | দূরপাল্লার শট |
| বার্সেলোনা | রবার্ট লেভান্ডভস্কি | ১ | ৭০’ | রাশফোর্ডের সহায়তায় |
| স্লাভিয়া প্রাগ | ভাসিল কুসেই | ১ | ১০’ | ম্যাচের প্রথম গোল |
| স্লাভিয়া প্রাগ | রবার্ট লেভান্ডভস্কি | ১ | ৪৫’ | নিজের জালে সমতা ফেরানো গোল |
বার্সেলোনার এই জয়ে তাদের পয়েন্ট তালিকায় নয় নম্বরে উন্নীত হয়েছে। শেষ আটে থাকার জন্য বুধবার কোপেনহেগেনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জয় নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলও তাদের পক্ষে থাকা জরুরি।
এছাড়া, এই মাসের শুরুতে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছে বার্সেলোনা। লা লিগায় তারা শীর্ষে আছে এবং কোপা দেল রে-র কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলছে। চারটি শিরোপার স্বপ্ন এখনও জীবিত, যা কাতালান ক্লাবের প্রতি উৎসাহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
