নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক যুবককে অপহরণ করে হত্যা করার ঘটনায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির ওপর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। যদি এই জরিমানা অনাদায়ে থাকে, তবে প্রত্যেককে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এই রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা ও তাদের পরিচয়:
| নাম | পিতার নাম | এলাকা | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|---|
| সজল বর্মন | নারায়ণ বর্মন | দুপ্তারা, আড়াইহাজার | পলাতক |
| সঞ্জিত বর্মন | পাগল চান বর্মন | দুপ্তারা, আড়াইহাজার | পলাতক |
| রুমা (আয়নাল হকের মেয়ে) | আয়নাল হক | নন্দলালপুর, ফতুল্লা | পলাতক |
| রুমা (কাদেরের মেয়ে) | কাদের | নন্দলালপুর, ফতুল্লা | পলাতক |
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ভজন চন্দ্র দাস ২৩ বছর বয়সী ছিলেন এবং নরসিংদীর মাধবদী এলাকার ফনি চন্দ্র দাসের ছেলে। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ভজন চন্দ্র দাসকে অপহরণ করা হয় এবং ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার মুক্তিপণ পরিশোধ করলেও, আসামিরা ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভজন চন্দ্র দাসকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাটির নিচে পুঁতে রাখে।
পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করে। ভজন চন্দ্র দাসের বাবা ফনি চন্দ্র দাস আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে এ মামলা উপস্থাপন করা হয় এবং মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ড এলাকায় ভয়ের ছাপ রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি সমাজে শাস্তির deterrent হিসেবে কাজ করে। হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো ঘটনাগুলো আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের মান বৃদ্ধি পায়।
আদালতের এই রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও সাধারণ জনগণের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
