২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (এইচ১ ২০২৫) মালয়েশিয়ার সাধারণ বীমা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। জেনারেল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন অব মালয়েশিয়া (PIAM)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশটির সাধারণ বীমা খাতে মোট গ্রস রিটেন প্রিমিয়াম (GWP) দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১২.৩ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (আরএম)। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, যা মূলত পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নত আন্ডাররাইটিং পারফরম্যান্সের ফল।
এই সময়কালে আন্ডাররাইটিং মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৮.৩ মিলিয়ন ডলার (আরএম ১৫৩ মিলিয়ন) বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১৫৭.৩ মিলিয়ন ডলার (আরএম ৬২৯ মিলিয়ন)-এ পৌঁছেছে। এটি বীমা কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উন্নতির প্রতিফলন।
মোটর বীমা: বৃহত্তম হলেও চাপে
মালয়েশিয়ার সাধারণ বীমা খাতে এখনো মোটর বীমা সবচেয়ে বড় খাত। মোট প্রিমিয়ামের ৪২.৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার (আরএম ৫.৩ বিলিয়ন) আসে এই খাত থেকে। তবে দুঃখজনকভাবে, এই সেগমেন্টে এখনো আন্ডাররাইটিং লোকসান অব্যাহত রয়েছে। উচ্চ দাবির হার (দাবি ফ্রিকোয়েন্সি) ও ক্ষতির মাত্রা (তীব্রতা) বৃদ্ধির কারণে মোটর বীমার কম্বাইন্ড রেশিও দাঁড়িয়েছে ১০২.২ শতাংশ, যা লাভজনকতার জন্য অনুকূল নয়। পাশাপাশি, মোটর বীমায় প্রবৃদ্ধির হারও কমে ৫.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছর ছিল ৮ শতাংশ।
নন-মোটর বীমা: লাভজনকতার ভরসা
মোটর খাতের দুর্বলতা অনেকটাই সামাল দিয়েছে নন-মোটর বীমা লাইনগুলো। এর মধ্যে ফায়ার ইন্স্যুরেন্স দ্বিতীয় বৃহত্তম সেগমেন্ট হিসেবে উঠে এসেছে। এই খাতে প্রিমিয়াম আয় হয়েছে প্রায় ০.৭ বিলিয়ন ডলার (আরএম ২.৬ বিলিয়ন), যা মোট পোর্টফোলিওর ২১.১ শতাংশ। ফায়ার ইন্স্যুরেন্সে কম্বাইন্ড রেশিও মাত্র ৬৭.৩ শতাংশ, যা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে ধারাবাহিকভাবে ১০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।
এছাড়া, পার্সোনাল অ্যাকসিডেন্ট (পিএ) বীমা খাতে প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে ০.২ বিলিয়ন ডলার (আরএম ০.৮ বিলিয়ন), যা মোট পোর্টফোলিওর ৬.৪ শতাংশ। এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.২ শতাংশ। পাশাপাশি মেরিন, এভিয়েশন অ্যান্ড ট্রানজিট (MAT) এবং যত্ন সেগমেন্টও লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।
প্রধান তথ্য এক নজরে
| খাত | প্রিমিয়াম (ডলার) | পোর্টফোলিও অংশ | প্রবৃদ্ধি / রেশিও |
|---|---|---|---|
| মোট জিডব্লিউপি | $3.1b | 100% | +4.0% |
| মোটর | $1.3b | 42.8% | Combined Ratio 102.2% |
| ফায়ার | $0.7b | 21.1% | Combined Ratio 67.3% |
| পার্সোনাল অ্যাকসিডেন্ট | $0.2b | 6.4% | Growth 11.2% |
| আন্ডাররাইটিং মুনাফা | $157.3m | — | +$38.3m |
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
তবে এই অগ্রগতির মাঝেও খাতটি একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, সাইবার নিরাপত্তা হুমকি, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, ভোক্তাদের পরিবর্তিত প্রত্যাশা এবং মুদ্রাস্ফীতিজনিত ব্যয়চাপ।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটালাইজেশন, ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভোক্তা সচেতনতা কর্মসূচি, সরকারের Perlindungan Tenang ভাউচার স্কিমে অংশগ্রহণ এবং প্রতিভার জন্য সাধারণ বীমা ইন্টার্নশিপ (গিফট) কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, মোটর বীমার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নন-মোটর খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স মালয়েশিয়ার সাধারণ বীমা শিল্পকে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।
