উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি একাদশে মোস্তাফিজুর রহমান

জাতীয় দল ও বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি লিগে ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০২৫ সালজুড়ে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেরই স্বীকৃতি মিলেছে এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ওয়েবসাইট উইজডেন–এর বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি একাদশে জায়গা পাওয়ার মাধ্যমে।

উইজডেন জানিয়েছে, স্বীকৃত সব ধরনের টি–টোয়েন্টি ম্যাচ—আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ—মিলিয়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেই এই বর্ষসেরা একাদশ নির্বাচন করা হয়েছে। ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে গত বছরের শেষ ভাগে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বছরজুড়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে আইপিএল, এসএটি২০, বিগ ব্যাশ, দ্য হানড্রেডসহ নানা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। এই বিশাল প্রতিযোগিতার ভিড়ে মোস্তাফিজ নিজেকে আলাদা করে প্রমাণ করেছেন।

উইজডেনের সম্পাদকীয় দল মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে লিখেছে, অন্তত ১৫০ ওভার বল করা বোলারদের মধ্যে ২০২৫ সালে তাঁর বোলিং গড়ের (১৮.০৩) কাছাকাছিও কেউ যেতে পারেননি। পেসারদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী, আর স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে কেবল ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারই তাঁর চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন। ডেথ ওভারে রান আটকে রাখা এবং নিয়মিত উইকেট নেওয়াই ছিল মোস্তাফিজের বড় শক্তি।

মোস্তাফিজুর রহমানের ২০২৫ সালের টি–টোয়েন্টি পারফরম্যান্স

সূচকপরিসংখ্যান
ইনিংস৪৩
উইকেট৫৯
বোলিং গড়১৮.০৩
ইকোনমি রেট৬.৭৮
স্ট্রাইক রেট১৫.৯
মোট ওভার১৫৬.৫
সেরা বোলিং৩/১১

তুলনায়, জেসন হোল্ডার ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ২৫০.২ ওভার বল করে ৯৭ উইকেট নেন। যদিও তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫.৪, তবে বোলিং গড় দাঁড়ায় ২১.৪২—যা মোস্তাফিজের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বর্ষসেরা একাদশে স্পিন বিভাগে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন জায়গা পেয়েছেন। পেস আক্রমণে মোস্তাফিজের সঙ্গে আছেন নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি, আর পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্যাম কারেন ও জেসন হোল্ডার।

ব্যাটিং বিভাগেও রয়েছে তারকার ছড়াছড়ি। ওপেনিংয়ে ভারতের অভিষেক শর্মা ও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। অভিষেক গত বছর সব ধরনের স্বীকৃত টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে তিনটি সেঞ্চুরি করেন এবং ২০২.০১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে এক পঞ্জিকাবর্ষে প্রতি বলে দুই রান করে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। সল্ট ৫২ ইনিংসে ১৫৭৫ রান করার পাশাপাশি দলের উইকেটকিপারের দায়িত্বও সামলেছেন।

মিডল অর্ডারে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দেভাল্ড ব্রেভিস, ডনোভান ফেরেইরা ও অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড। বিশেষ করে ফেরেইরাকে মাঝের ওভারে বাউন্ডারি মারার ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছে উইজডেন। আর ব্রেভিস একাধিক লিগে ১৮০–এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে তাঁর বিস্ফোরক সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি একাদশে মোস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্ব টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলিং শক্তিরও বড় স্বীকৃতি।