মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে চরম নাটকীয়তায় আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেনেগাল। মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে দিতে গিয়ে একমাত্র গোল করেছেন ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ি। নির্ধারিত সময়ে ০-০ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তাপ, বিতর্ক ও নাটকীয়তায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফাইনালের শুরু থেকেই প্রতিটি মিনিটে উত্তেজনা কাণ্ড ঘটাচ্ছিল। ৯০ মিনিটের শেষের দিকে মরক্কো পায় পেনাল্টি। রেফারি জ্যাঁ জাক নডালা ভিএআরের পরামর্শে এল হাজি মালিক দিয়ুফকে দায়ী করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে পেনাল্টি নেয়ার দায়িত্ব থাকা রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ পানেনকা শটে ব্যর্থ হন, এবং গোলকিপার এদুয়ার মেন্দির সহজেই সেই শট আটকান।

পেনাল্টি মিসের পর খেলোয়াড়দের মনোবল নেমে আসে। সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও ক্ষুব্ধ হয়ে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বলেন। ১৭ মিনিটের বিরতির পর ‘নেশনাল হিরো’ সাদিও মানে দলের সকলকে ফিরে আনেন এবং খেলা পুনরায় শুরু হয়। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে পাপে গেয়ির চমৎকার এক শট সেনেগালের জয় নিশ্চিত করে।

মরক্কো এবারেও আফ্রিকার শীর্ষ ট্রফি জয় করতে পারেনি। শেষবার তারা জিতেছিল ১৯৭৬ সালে। ২০০৪ সালের ফাইনালে তিউনিসিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। এবার আশা ছিল আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে শিরোপা ফিরে আসবে, কিন্তু পঞ্চাশ বছরের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। সেনেগালের জন্য এটি দ্বিতীয় আফকন শিরোপা; প্রথমটি হয়েছিল ২০২১ সালে।

ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিসংখ্যান নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

দলগোলশট (সঠিক)কার্নারপেনাল্টিসেভ করা গোল
সেনেগাল১২ (৫)
মরক্কো৯ (৩)

খেলাধুলার দিক থেকে ফাইনালটি ছিল উভয় দলের জন্য কঠিন পরীক্ষা। সেনেগাল কিছু সময় গোলের কাছে পৌঁছালেও প্রথমার্ধে যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। মরক্কোর দলও অতিরিক্ত সময়ে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হলো। শেষ পর্যন্ত পাপে গেয়ির নির্ভুল গোলই নির্ধারণ করে বিজয়ী দলের নাম।

আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে এই ফাইনালটি চরম নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও মানবিক লিডারশিপের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। সেনেগালের ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’ নতুন প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।