যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট হয়ে ঢাকাগামী বিমানের সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে হাউস অব কমন্সে বিষয়টি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য পল ওয়া। তিনি বলেন, এই রুট স্থগিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলসহ স্কটল্যান্ড ও মিডল্যান্ডসের বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পল ওয়া উল্লেখ করেন, তার নির্বাচনী এলাকা রচডেলসহ ম্যানচেস্টারকেন্দ্রিক উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে সিলেটি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা ম্যানচেস্টার–সিলেট সরাসরি ফ্লাইটের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে যাতায়াত করে আসছেন। হঠাৎ করে এই রুট স্থগিতের ঘোষণায় পারিবারিক যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক সফরে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিকল্প হিসেবে লন্ডন হয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শোকাহত পরিবার বা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এ কারণে তিনি হাউস অব কমন্সের নেতার কাছে প্রশ্ন রাখেন—উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এমপিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হবে কি না।
জবাবে নিম্নকক্ষের নেতা অ্যালান ক্যাম্পবেল বলেন, পল ওয়া অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ, বিশেষ করে শোক ও সংকটের সময়ে, এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সরাসরি ফ্লাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রচডেল ও আশপাশের অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির আবেগ ও প্রয়োজন আজ সংসদে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আগামী মার্চ থেকে ম্যানচেস্টার–সিলেট রুটের নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। প্রাথমিকভাবে ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা থাকলেও পরে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে তা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে আর্থিক ও পরিচালনাগত কারণের কথা বলা হলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, যাত্রীচাহিদা ও সামাজিক প্রয়োজন যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘সেইভ ম্যানচেস্টার টু সিলেট রুট’ ডিজিটাল মাধ্যমে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছে। সংগঠনটির দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন ব্রিটিশ এমপি তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সামনে আরও সংসদ সদস্য যুক্ত হবেন বলে তারা আশাবাদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চাইছেন।
নিচের টেবিলে রুট স্থগিতের প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | প্রভাব |
|---|---|
| যাত্রী যাতায়াত | লন্ডন হয়ে ভ্রমণে সময় ও খরচ বৃদ্ধি |
| পরিবারিক যোগাযোগ | জরুরি ও শোককালীন সফরে জটিলতা |
| ব্যবসা-বাণিজ্য | উত্তরাঞ্চলের বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ক্ষতি |
| কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া | এমপি ও প্রবাসীদের সমর্থনে আন্দোলন জোরদার |
সব মিলিয়ে, ম্যানচেস্টার–সিলেট রুট কেবল একটি ফ্লাইট নয়, বরং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। তাই এই রুট পুনর্বহালের দাবি ক্রমেই রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
