শ্রমিক দল নেতা হত্যার জেরে মাদারীপুরে রণক্ষেত্র

মাদারীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমিক দল নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নতুন মাদারীপুর এলাকায় চলা এই সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন এবং কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত শ্রমিক দল নেতা শাকিল মুন্সির হত্যার মামলায় আসামি আক্তার হাওলাদারের সমর্থক ও বাদী হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোররাতে আক্তার হাওলাদারের সমর্থকরা শ্রমিক দল নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সকাল ১০টার দিকে দুইপক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার এবং একের পর এক ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।

পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের যৌথ অভিযান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পুলিশ, সেনা ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযানকালে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “বাদী ও আসামিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, “এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ মামলা দায়ের করেনি।”

সংঘর্ষের মূল তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

ঘটনাতারিখ ও সময়স্থানআহতসম্পত্তি ক্ষতিপুলিশি পদক্ষেপ
শ্রমিক দল নেতা হত্যাকাণ্ডের পর সংঘর্ষ১৭ জানুয়ারি, সকাল-দুপুরনতুন মাদারীপুর, ২ নম্বর ওয়ার্ড১০ জনকয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরপুলিশ, সেনা ও র‍্যাব যৌথ অভিযান, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

সংঘর্ষের কারণে স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থেকে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে।