সাঁতার প্রতিযোগিতায় সাইফুলের দাপুটে জয় “বাংলা চ্যানেল”

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটার দূরত্বের বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় আজ শনিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সাঁতারু ও ঢাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিনি ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে চ্যানেলটি পাড়ি দিয়ে নিজের দখল আরও দৃঢ় করেছেন।

সকালে সাড়ে ৯টায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। মোট ৩৭ জন সাঁতারু এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন, তবে তাঁদের মধ্যে দুজন অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ৩৫ জন সাঁতারু থেকে ২০ জন সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। বাকি ১৫ জন স্রোতের কারণে চ্যানেল পার হতে ব্যর্থ হন।

সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ আয়োজন করেছে ‘১৯তম ঢাকা ব্যাংক বাংলা চ্যানেল সাঁতার ২০২৬’। ২০০৬ সাল থেকে ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার নিয়মিত এই সাঁতার ইভেন্ট আয়োজন করে আসছে।

সাঁতার প্রতিযোগিতার ফলাফল নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

স্থানসাঁতারুর নামসময় (ঘণ্টা:মিনিট)মন্তব্য
১মসাইফুল ইসলাম রাসেল৩:১৫পূর্বে ৬ বার বিজয়ী, সর্বশেষ ২০২৩ সালে জয়ী
২য়মো. ফয়সাল আহমেদ৪:৫৫যৌথভাবে দ্বিতীয়
২য়মো. তৈফিকুজ্জামান৪:৫৫যৌথভাবে দ্বিতীয়
৩য়হাফিজুর রহমান৫:০৫

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দুই নারী সাঁতারু হলেন ফেরদৌসী আক্তার এবং সোহাগী আক্তার। তারা দুজনই সফলভাবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছেন। সোহাগী আক্তার বলেন, “স্রোতের বেগ থাকা সত্ত্বেও ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে পারা আমার জন্য এক অভিজ্ঞতা। প্রতিযোগিতায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করা উচিত, যা সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের সিইও লিপটন সরকার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি সাঁতারুর পাশে ছিল একটি উদ্ধারকারী বোট এবং কয়েকটি দিকনির্দেশক বোট। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিজিবি এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দীন।

সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি এবারও প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি একবার ডাবল ক্রস ছাড়াও ছয়বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। ২০২৩ সালে তিনি ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে জয়ী হন, যা এবার ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে নতুন রেকর্ড স্থাপন করল।

বাংলা চ্যানেলে প্রথম সাঁতারের আয়োজন হয়েছিল ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি। প্রতি বছর এই ইভেন্ট ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সাঁতারের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।