ফিফা সভাপতির প্রত্যাশা: বিশ্বমঞ্চে খেলবে লাল-সবুজের বাংলাদেশ

বাংলাদেশ যে একটি ফুটবল পাগল দেশ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতি চার বছর অন্তর ফিফা বিশ্বকাপ এলে এ দেশের মানুষের মধ্যে যে অভাবনীয় উন্মাদনা ও আবেগ দেখা যায়, তা কাতার বিশ্বকাপের সময় পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা খোদ ফিফার অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও বিশেষ গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়েছে। তবে ভক্তদের মনে একটি চিরন্তন আক্ষেপ সবসময়ই থেকে যায়—কবে নিজের দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে?

ফিফা সভাপতির ইতিবাচক বার্তা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভক্তের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ফুটবলকে বিশ্বজনীন করা এবং বাংলাদেশের মতো উদীয়মান দেশগুলোকে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে সহায়তা করা। ইনফান্তিনো বলেন, “অবশ্যই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রান্তে ফুটবলের প্রতিভা অন্বেষণ করা এবং তাদের বিশ্বমঞ্চে নিয়ে আসা।”

আগামী বছরের ফিফা বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি নতুন দলের অংশগ্রহণের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দে, কনকাকাফ থেকে কুরাসাও এবং এশিয়া থেকে জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো প্রথমবার কোয়ালিফাই করতে পারলে বাংলাদেশও তা পারবে।

তৃণমূল পর্যায় থেকে বিশ্বমঞ্চের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সাথে ফিফার সমন্বয় এবং বিনিয়োগের বিষয়টিও ইনফান্তিনোর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে ফুটবল প্রতিভাদের সঠিক বিকাশের লক্ষ্যে ফিফা নিয়মিত বিনিয়োগ করছে। নিচে ফিফার বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিষয়বস্তুবর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য
ফিফার দৃষ্টিভঙ্গিবাংলাদেশকে ফুটবলের এক উর্বর ভূমি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।
বিনিয়োগ ক্ষেত্রএকাডেমি উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে কোচিং প্রোগ্রাম।
নতুন দলের নজিরজর্ডান, উজবেকিস্তান, কেপ ভার্দে ও কুরাসাও-এর কোয়ালিফাই হওয়া।
জামাল ভূঁইয়ার স্বপ্নট্রফি সফরের সময় নিজ দেশকে বিশ্বকাপে দেখার দৃঢ় সংকল্প।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্যএশিয়ার বর্ধিত স্লট ব্যবহার করে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বপ্ন

গত পরশু যখন ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে এসেছিল, তখন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সেই সোনালি ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সময় নিজের স্বপ্নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। জামালের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার মাধ্যমে একদিন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সাথে লড়াই করবে। ফিফা সভাপতির এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই স্বপ্নকে আরও অক্সিজেন জোগাচ্ছে।

ইনফান্তিনো স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে এবং সঠিক প্রতিভা অন্বেষণ করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে এই দেশটিকে বিশ্বকাপে দেখা কেবল সময়ের ব্যাপার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন।

এই আশাব্যঞ্জক বার্তা কেবল ফুটবলারদের জন্য নয়, বরং কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থকদের জন্যও এক নতুন প্রেরণা। এখন প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশীয় ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।