চুরির বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা ও গণধোলাইয়ে ঘাতক নিহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো এলাকায় গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক ভয়াবহ অপরাধ ও গণবিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে এক দুর্বৃত্ত ওই বাড়ির গৃহবধূ আমেনা বেগমকে (৪৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তবে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অভিযুক্ত ঘাতক মেহেদীর। আমেনা বেগম ওই এলাকার দেওয়ান কামরুজ্জামান বাবুলের স্ত্রী এবং ঘাতক মেহেদী কাঞ্চন পৌরসভার মস্তাপুর এলাকার রেজাউলের ছেলে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নিহত আমেনা বেগমের বাড়িতে চার দিন আগে টাইলস বসানোর কাজ হয়েছিল। মেহেদী সেই নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে ওই বাড়িতে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল এবং বাড়ির অভ্যন্তরীণ বিন্যাস সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেছিল। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা জুমার নামাজে বাইরে থাকায় এবং বাড়িটি ফাঁকা ভেবে মেহেদী চুরির উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে। আলমারি বা মূল্যবান মালামাল হাতানোর সময় আমেনা বেগম তাকে দেখে ফেলেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে মেহেদী তার সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আমেনা বেগমের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই মেহেদী তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করে। প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় আমেনা বেগমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জনতার ক্ষোভ ও ঘাতকের মৃত্যু

হত্যাকাণ্ডের খবর বিদ্যুৎবেগে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ একত্রিত হয়। পালানোর সময় এলাকাবাসী মেহেদীকে ধাওয়া করে কেরাবো এলাকায় আটক করতে সক্ষম হয়। ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দিতে শুরু করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। এক সময়ের পূর্বপরিচিত শ্রমিকের হাতে গৃহবধূর এমন নৃশংস মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উত্তজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
নিহত গৃহবধূআমেনা বেগম (৪৫), স্বামী: দেওয়ান কামরুজ্জামান বাবুল।
নিহত ঘাতকমেহেদী (নির্মাণ শ্রমিক), পিতা: রেজাউল।
ঘটনার স্থানকেরাবো এলাকা, কাঞ্চন পৌরসভা, রূপগঞ্জ।
ঘটনার সময়১৬ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার দুপুর।
হত্যাকাণ্ডের কারণচুরিতে বাধা প্রদান।
আইনি পদক্ষেপমরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ ও মামলা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়, তবে জনরোষের কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছিল। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক বা অপরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে কাজের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার আলোচনা শুরু হয়েছে। আমেনা বেগমের পরিবারের সদস্যরা ঘাতক মেহেদীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে ঘাতক নিজেই জনরোষের বলি হলো।