ইরান অভিযোগ করছে, বিক্ষোভে সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে ইসরাইল

ইরানের চলমান গণবিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় ইসরাইল সন্ত্রাসীদের সহায়তা দিচ্ছে—এমন অভিযোগ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তুলে ধরেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘ সদর দফতরে গুতেরেসকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ও সমর্থনের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ইরানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের অর্থ, অস্ত্র ও সংগঠনে সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরাঘচি জানিয়েছেন, “বিক্ষোভের সূচনা ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই কিছু উগ্র গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যা পরিস্থিতিকে সহিংস করে তোলে।” তিনি আরও বলেন, “এই সন্ত্রাসীদের সংগঠিত ও সশস্ত্র করার পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা স্পষ্ট, এবং এতে ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে। তবু ইরান মানবাধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।”

এদিকে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আবদুল্লাহ আল দারদারি বলেন, “ইরানিরা তাদের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার অধিকার রাখে, কিন্তু কোনোরকম ভয়ের মধ্যে থাকা উচিত নয়। যারা আটক হয়েছেন, তাদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানে নিহত প্রতিটি ব্যক্তির ঘটনায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি এবং বহির্বিশ্বের প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরান সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান কেবল সংলাপ, কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। সংঘাত ও বাইরের হস্তক্ষেপ কোনো সমাধান নয়।”

ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন দেশটির মুদ্রা রিয়াল দ্রুত পতনের মুখে পড়ে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও গণবিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২,৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই সংখ্যাকে প্রায় ২,০০০ জন হিসেবে স্বীকার করেছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার কিছু মূল তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বস্তুতথ্য
বিক্ষোভ শুরুর তারিখ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
মূল কারণমুদ্রার দ্রুত পতন ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা
মানবাধিকার সংস্থার নিহত সংখ্যা২,৫৭১ জন
ইরান সরকারের স্বীকৃত সংখ্যাপ্রায় ২,০০০ জন
আন্তর্জাতিক উদ্বেগজাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি
ইরান সরকার প্রতিশ্রুতিমানবাধিকার রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ভেতরে উগ্র গোষ্ঠীর সহিংস কার্যক্রম ও বাইরের দেশগুলোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি ও সংলাপই একমাত্র কার্যকর উপায় বলে অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদরা মনে করছেন।