ইরানের উপর আক্রমণ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন নেতানিয়াহু

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেনি, তবে তা সময়মতো স্থগিত করা হয়েছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১৪ অনুসারে, বুধবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলকে জানিয়েছিল যে তারা রাতেই ইরানে হামলা চালাতে পারে, কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার সতর্কবার্তার কারণে ইরানে আটক এক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, একই সিদ্ধান্ত অন্যান্য আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এএফপি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এক কর্মকর্তার বরাতে ট্রাম্পকে ইরানকে আরও সময় দিতে এবং সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে রাজি করিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। ট্রাম্প নিজেও তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “এটি ভালো খবর… আশা করি এটি চলতে থাকবে।”

ইরান সরকারও জানিয়েছে, বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যা সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড নয়। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তাকে জানানো হয়েছে যে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরীভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ড বন্ধের পথ সুগম হয়েছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
ইসরাইলের অনুরোধহামলা স্থগিতের জন্য ট্রাম্পকে অনুরোধ
মার্কিন পরিকল্পনাইরান রাতেই হামলা করতে পারতো, স্থগিত
সৌদি আরবের ভূমিকাট্রাম্পকে ইরানকে সময় দিতে রাজি করানো
আটক ব্যক্তিএরফান সোলতানি, মৃত্যুদণ্ড বাতিল
ট্রাম্পের মন্তব্য“এটি ভালো খবর… আশা করি চলবে”

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক হামলার স্থগিতের পেছনে কূটনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের পরিস্থিতি এবং বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মার্কিন নীতি আরও নমনীয় হচ্ছে। এর ফলে সামরিক সংঘাত থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মোট কথা, ইরান-মার্কিন উত্তেজনা সাময়িকভাবে শিথিল হলেও পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল, এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও সামরিক উদ্যোগগুলোর উপর সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে।