ক্যাসিডির মাস্টারক্লাসে সিট্রোয়েনের স্বপ্নযাত্রা শুরু

মেক্সিকো সিটি ই–প্রিতে নিক ক্যাসিডি যা করে দেখালেন, তা আধুনিক ফর্মুলা ই–এর ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক অনন্য অধ্যায়। গ্রিডে ১৩তম স্থান থেকে শুরু করে নিখুঁত কৌশল, শক্তি ব্যবস্থাপনা ও সাহসী সিদ্ধান্তের সমন্বয়ে তিনি ছিনিয়ে নিলেন বিজয়। এর মধ্য দিয়ে অল–ইলেকট্রিক এই চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র দ্বিতীয় রেসেই প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফরাসি নির্মাতা সিট্রোয়েন। ২০২৫/২৬ মৌসুমের শুরুতেই দলটির দ্রুত উন্নতি ও ক্যাসিডির কৌশলগত প্রজ্ঞা এই ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সাও পাওলো মৌসুম উদ্বোধনী রেসে ক্যাসিডির তৃতীয় স্থান সিট্রোয়েনকে আশাবাদী করেছিল, তবে মেক্সিকোতেই এত দ্রুত শীর্ষে ওঠা খুব কম লোকই কল্পনা করেছিলেন। অটড্রোমো হারমানোস রদ্রিগেজ সার্কিটে ক্যাসিডি দেখান, কাঁচা গতির চেয়ে সঠিক সময়ে অ্যাটাক মোড ব্যবহার ও শক্তি সঞ্চয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন আগেভাগে আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিচ্ছিলেন, তখন তিনি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

কোয়ালিফাইং থেকেই নাটকের শুরু। টেইলর বার্নার্ড দ্রুততম সময় করলেও ট্র্যাক লিমিটস লঙ্ঘনের কারণে তার ল্যাপ বাতিল হয়। ফলে পোল পজিশন পান সেবাস্তিয়ান বুয়েমি। কিন্তু রেসের শুরুতেই টার্ন–১–এ ব্রেকিং ভুল করে রান–অফে চলে যান তিনি। নেতৃত্বে আসেন বার্নার্ড, যদিও দ্রুতই বোঝা যায়—এই রেসে ট্র্যাক পজিশনের চেয়ে কৌশলই নির্ধারক হবে।

অ্যটাক মোড কখন ব্যবহার করা হবে, শক্তি কতটা সাশ্রয় করা যাবে—এই প্রশ্নেই বারবার বদলাতে থাকে অবস্থান। পাস্কাল ভেয়ারলাইন আগেভাগে অ্যাটাক মোড নিয়ে অষ্টম স্থান থেকে পঞ্চম ল্যাপেই লিড নেন। কিন্তু চার মিনিটের সুবিধা শেষ হতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন, যা আগেভাগে আক্রমণের ঝুঁকি স্পষ্ট করে।

মিড–রেসে নিক ডি ভ্রিসের যান্ত্রিক সমস্যায় সেফটি কার নামলে মাঠ সংকুচিত হয়, এতে শক্তি সঞ্চয় করে রাখা চালকেরা সুবিধা পান। এরপর আন্তোনিও ফেলিক্স দা কস্তা, ম্যাক্সিমিলিয়ান গুন্থার ও ড্যান টিকটামের সংঘর্ষে আবারও ইয়েলো ফ্ল্যাগ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শেষ ১৩ ল্যাপেই নির্ধারিত হয় ভাগ্য। ক্যাসিডি তার আট মিনিটের অ্যাটাক মোডকে ব্যতিক্রমীভাবে ছয় ও দুই মিনিটে ভাগ করে ব্যবহার করেন। একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে তিনি লিড নেন। শেষ দিকে এদোয়ার্দো মর্টারা চাপ সৃষ্টি করলেও ক্যাসিডির উন্নত শক্তি ব্যবস্থাপনা তাকে নিখুঁতভাবে প্রতিরোধের সুযোগ দেয়। ফলে ফর্মুলা ই–তে নিজের ১২তম জয় নিশ্চিত করেন এই নিউজিল্যান্ডার।

মর্টারা মহিন্দ্রার হয়ে দ্বিতীয় এবং শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে বার্নার্ড ও জেক ডেনিসকে পেছনে ফেলে অলিভার রোল্যান্ড তৃতীয় হন। রুকি পেপে মার্তি শক্তি সাশ্রয় করে শেষ দিকে আক্রমণ চালিয়ে সপ্তম স্থানে শেষ করে নজর কাড়েন।

মেক্সিকো সিটি ই–প্রি: শীর্ষ ১০ ফলাফল

অবস্থানড্রাইভারদল
নিক ক্যাসিডিসিট্রোয়েন
এদোয়ার্দো মর্টারামহিন্দ্রা
অলিভার রোল্যান্ডনিসান
টেইলর বার্নার্ডম্যাকলারেন
জেক ডেনিসআন্দ্রেত্তি
পাস্কাল ভেয়ারলাইনপোর্শে
পেপে মার্তিকিরো
জঁ–এরিক ভার্নসিট্রোয়েন
নিকো মুলারএবিটি কুপ্রা
১০নরম্যান নাটোআন্দ্রেত্তি

রেস শেষে ক্যাসিডি স্বীকার করেন, শেষ ল্যাপগুলোতে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না, তবে দলের কৌশলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। পরিসংখ্যানও তার পক্ষে কথা বলছে—মেক্সিকো সিটিতে গত তিন বিজয়ীই পরবর্তীতে বিশ্ব শিরোপা জিতেছেন। যদিও শিরোপা নিয়ে এখনই কথা বলতে চান না ক্যাসিডি, তবে ভ্যালেন্সিয়ার প্রি–সিজন টেস্টের পর থেকে সিট্রোয়েনের উন্নতির গতি যে দলটিকে প্রকৃত শিরোপা–প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছে, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।