ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার কেন্দ্রীয় কমিটিকে চিঠি পাঠিয়ে দলের দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও তাঁদের সহযোগী পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন। ১৩ জানুয়ারি বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে এ আবেদন করা হয়।
নাদিরা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, “কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অমান্য করে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী এখনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তারা ভোটারদের কাছে বিএনপির হয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং দলের অভ্যন্তরে কোন্দল বাড়ছে। বিষয়টি দলের জন্যও বিব্রতকর। আমি আশা করছি, কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্পর্ক নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| প্রার্থী / নেতা | পদবি | অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| নাদিরা আক্তার | জেলা বিএনপি সদস্য, শিবচর যুগ্ম আহ্বায়ক | কেন্দ্রীয় কমিটির মনোনীত প্রার্থী | দলের কোন্দল বৃদ্ধিতে চিঠি পাঠিয়েছেন |
| কামাল জামান মোল্লা | শিবচর উপজেলা বিএনপি সদস্য | স্বতন্ত্র প্রার্থী | মনোনয়ন বাতিলের পর জনগণের সমর্থনে নির্বাচন করছেন |
| সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী | জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক | স্বতন্ত্র প্রার্থী | চিঠি দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র থেকে আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছেন |
| শাজাহান মোল্লা | শিবচর উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক | সহায়ক নেতৃবৃন্দ | দলের সঙ্গে অন্যায়ের অভিযোগ করেছেন |
| আজমল হোসেন খান | শিবচর পৌর বিএনপি সদস্যসচিব | সহায়ক নেতৃবৃন্দ | স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক |
| মাহাবুব মাদবর | শিবচর উপজেলা বিএনপি সদস্য | সহায়ক নেতৃবৃন্দ | স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক |
| শামীম চৌধুরী | শিবচর উপজেলা বিএনপি সদস্য | সহায়ক নেতৃবৃন্দ | স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক |
| তুমন চৌধুরী | জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক | সহায়ক নেতৃবৃন্দ | স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থক |
প্রসঙ্গত, প্রথম পর্যায়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লা মনোনয়ন পান। কিন্তু জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকদের অসন্তোষের কারণে মনোনয়ন স্থগিত করে দ্বিতীয় দফায় নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কামাল জামান মোল্লা বলেন, “দল আমাকে যোগ্যতা ও মূল্যায়ন বিবেচনায় মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জনগণের সমর্থনেই আমি নির্বাচন করেছি। এখন পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, “যদি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কেন্দ্র থেকে ডাকুক। আমাদের সঙ্গে বসুক। আমরা আমাদের বক্তব্য দেব। বহিষ্কার প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবছি না।”
শাজাহান মোল্লা বলেন, “দল আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী শিবচরের জনগণকে অবমাননা করেছেন। ৪২ বছরের রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি প্রথম দেখছি।”
এ পরিস্থিতিতে শিবচর আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও জটিল রূপ নিচ্ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
